৯ বছরের শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করলো ডাকাতের স্ত্রী-সন্তান! ৯ বছরের শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করলো ডাকাতের স্ত্রী-সন্তান!

রবিবার, ১৩ Jun ২০২১, ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন







৯ বছরের শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করলো ডাকাতের স্ত্রী-সন্তান!

৯ বছরের শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করলো ডাকাতের স্ত্রী-সন্তান!

৯ বছরের শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতন
ফাইল ছবি

ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুরে রিফাত (৯) নামের দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করেছেন স্থানীয় মৃত বারেক ডাকাতের স্ত্রী ও ছেলে। নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (৪ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের রামগোপালপুর ইউনিয়নের মধুবন আদর্শ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশু নির্যাতনকারী একই উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের মৃত বারেক ডাকাতের স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও তার ছেলে হিমেল (২৫)।

নির্যাতনের শিকার রিফাত গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় রামগোপালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

প্রথমে বিষয়টি স্থানীয়দের মাঝেই গোপন থাকে। পরে নির্যাতনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) শেয়ার দিলে জানাজানি হয়।

নির্যাতনের শিকার রিফাতের বাবা সুরুজ মিয়া জানান, গত মাসের শেষ সপ্তাহে ফাতেমা বেগমের ভাইয়ের স্ত্রী রিফাতকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গাছ থেকে আম পেড়ে দিতে বলে। রিফাত আম পাড়ার জন্য গাছে উঠলে ফাতেমা ও তার ছেলে হিমেল রিফাতকে পিটিয়ে গাছ থেকে নামায়। এরপর রিফাত সপ্তাহখানেক জ্বরে ভোগে। জ্বর কিছুটা সেরে উঠলে শুক্রবার (৪ জুন) আমি বাড়িতে না থাকায় ফাতেমার ছেলে হিমেল রিফাতকে বাড়ি থেকে নিয়ে গাছের সঙ্গে গরুর দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করেন। আমি বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে রিফাতকে ওই বাড়ি গিয়ে দড়ির বাঁধ খুলে ছেলেকে বাড়ি নিয়ে আসি। এরপর গ্রামের গণ্যমান্যদের জানালে বিচারের আশ্বাস দেয়।

রিফাতের বাবা আরও জানান, রিফাতের মা ৫ বছর আগে সৌদি আরব যায়। এরপর থেকে ছেলে-মেয়েকে নিজেই মায়ের মতো লালন-পালন করছি। বাড়ির বাইরে কাজে গেলে স্থানীয়রা বিভিন্ন কাজ করায় সন্তানদের দিয়ে। প্রতিবেশীরাও ছেলেকে নির্যাতন করে।

এদিকে নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ফাতেমা বেগম। তবে তার ছেলে হিমেল নির্যাতনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমার ঘর থেকে মোবাইল চুরি করায় তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখেছিলাম। পরে রিফাতের বাবা আমার বাড়ি এসে আমাকে পিটিয়ে ছেলেকে নিয়ে যায়।

এদিকে গৌরীপুর থানার ওসি আব্দুল হালিম সিদ্দিকী জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মারুফ বলেন, বিষয়টি জানা নেই। তবে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

শেয়ার করুন




All Rights Resrved & Protected