বীরত্বপূর্ণ ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিজিবি পদক পেলেন ৫৯জন
English

ব্রেকিং নিউজ
বীরত্বপূর্ণ ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিজিবি পদক পেলেন ৫৯জন

বীরত্বপূর্ণ ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিজিবি পদক পেলেন ৫৯জন

দেশের ঐতিহ্যবাহী সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ২০২০ সালের বীরত্বপূর্ণ ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ৪টি ক্যাটাগরিতে সর্বমোট ৫৯ জনকে পদক প্রদান করা হয়েছে। পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে ১০ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক (বিজিবিএম), ২০ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক (পিবিজিএম), ১০ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক সেবা (বিজিবিএমএস) এবং ১৯ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক সেবা (পিজিবিএমএস) প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দপ্তরের মাল্টিপারপাস সেডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পদকপ্রাপ্তদের পদক পরিয়ে দেন।

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ সাফিনুল ইসলাম, বিজিবিএম (বার), এনডিসি, পিএসসি স্বাগত বক্তব্যের শুরুতেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের প্রতি পরম শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

বিজিবি মহাপরিচালক তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছর গুলোতে বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিশেষ করে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্ব এবং ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় বিজিবি আজ ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এই বাহিনীতে আভিযানিক ক্ষেত্রে সংযোজিত হয়েছে ২টি অত্যাধুুনিক হেলিকপ্টার, যুগোপযোগী ও কার্যকরী ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্র, আর্মাড পার্সোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি), রায়ট কন্ট্রোল ভেহিক্যাল, অল টেরেইন ভেহিক্যাল, উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন হাইস্পীড বোট, ইন্টারসেপ্টর বোট ও ইউটিলিটি বোট ইত্যাদিসহ অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি।

তিনি আরও বলেন, ভারত ও মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের প্রায় ৮০ কিঃমিঃ সীমান্ত এলাকা ‘স্মার্ট বর্ডার সার্ভেইল্যান্স এন্ড রেসপন্স সিস্টেম’ এর আওতায় আনা হয়েছে। বিজিবি’র আভিযানিক কার্যক্রমকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে যশোরে একটি অত্যাধুনিক ডাটা সেন্টার ডিজাস্টার রিকভারী সাইট স্থাপন করা হয়েছে। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিজিবি সদস্যদের পোশাক, আবাসন, বেতন ভাতা বৃদ্ধিসহ প্রভৃতি উন্নয়ন সধিত হয়েছে।

সর্বক্ষেত্রে বিজিবি’র উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। এ জন্য বিজিবি’র প্রতিটি সদস্যের পক্ষ থেকে বিজিবি মহাপরিচালক বর্তমান সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিজিবি মহাপরিচালক দৃঢ়তার সাথে বলেন, বর্তমান সরকারের উদ্যোগে বিজিবি’র এসকল সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে এ বাহিনীর সদস্যদের সক্ষমতা ও কর্মস্পৃহা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আজ তাদের মনোবল অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক উন্নত। এ অবদান বিজিবি’র সকল সদস্য ও তাদের পরিবার আজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। আগামী দিনেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর সার্বিক উন্নয়নে সরকারের সদয় উদ্যোগ ও উদারতা বহাল থাকবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরিশেষে তিনি ২০২০ সালে বিজিবি’র কর্মকান্ডে বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ পদকপ্রাপ্ত সকল বিজিবি সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ও মহান দায়িত্ব বিজিবি’র উপর ন্যস্ত। নানান সীমাবদ্ধতা সত্ত্বে ও সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা সহ চোরাচালান, মাদকপাচার ও নারী-শিশুপাচার রোধে বিজিবি’র সফলতা প্রশংসনীয়। বিশেষ করে ইয়াবা, ফেনসিডিল এবং অন্যান্য মাদকপাচার রোধে বিজিবি বিশেষ কৃতিত্ব দেখাতে সক্ষম হয়েছে।  আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা সহ দেশ গঠনমূলক কাজেও বিজিবি প্রশংসনীয় ভ‚মিকা রাখছে।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিজিবি’র সার্বিক কল্যাণে ও বিজিবিকে একটি আধুনিক বর্ডার ফোর্স হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিজিবি’র সাংগঠনিক কাঠামোতে সংযোজন এনে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ও জনবল বৃদ্ধির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বিজিবি এয়ার উইং উদ্বোধন এবং ২টি অত্যাধুুনিক হেলিকপ্টার সংযোজনের মধ্য দিয়ে বিজিবিকে একটি ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বিজিবি’র সকল স্তরের সদস্যদের কল্যাণের জন্যও বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে বিজিবি’র আভিযানিক কার্যক্রমে আরো গতি আসবে এবং অধিক সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ২০২০ সালে বিজিবি’র কর্মকান্ডে বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে এই সফলতা আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সম্মানিত সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, বিজিবি’র সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা, সৈনিক ও বেসামরিক কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন


Advertisement




Ads Manager

All Rights Resrved & Protected