করোনা উপেক্ষা করে কক্সবাজারে আসছে পর্যটক

বৈশ্বিক মহামারি প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস উপেক্ষা করে ছুটির দিনে কক্সবাজারে আসছে পর্যটক। আগত পর্যটকরা মানছে না স্বাস্থ্যবিধি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমুদ্র সৈকতের প্রবেশ পথগুলোতে এ ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হলেও পর্যটকদেরকে উদাসীন দেখা যায়। ট্যুরিষ্ট পুলিশের পক্ষ থেকে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, মাস্ক ছাড়া সৈকতে প্রবেশ নিষেধ হলেও সৈকতে আগত পর্যটকদের মুখে কোন প্রকার মাস্ক দেখা যায়নি।

জানা যায়, করোনাকালে নতুন বছরের শুরুতে চাঙা হয়ে উঠেতে পারেনি কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসা। পর্যটক আগমনে পর্যটন ব্যবসায়ীরা তেমন খুশি হতে দেখা যায়নি। ডিসকাউন্টে চলছে রুম ভাড়া। শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) সাপ্তহিক ছুটির দিনেও হোটেল মোটেল জোনে মাত্র ৫০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। একাধিক তারকা মানের হোটেলে খবর নিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। যদিও নতুন বছরকে বরণ করতে কক্সবাজার শহরে আসছে হাজার হাজার পর্যটক। করোনার মাঝেও পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত কক্সবাজারের প্রতিটি পয়েন্ট।

এ নিয়ে হোটেল রেইন ভিউ রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুকিম খাঁন আইবিএনকে জানান, বর্তমানে হোটেল ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে। ডিসকাউন্টে চলছে রুম ভাড়া। তার হোটেলে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রুম বুকিং হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ।

কক্সবাজারের তারকামানের হোটেল সী গালের এজিএম মোহাম্মদ আরেফিন আইবিএনকে জানান, করোনার কারণে পর্যটক আগমন কমে গেছে। তার হোটেলে সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রুম বুকিং হয়েছে প্রায় ৫৫ শতাংশ। ডিসকাউন্টে রুম বুকিং দেয়া হচ্ছে।

তারকামানের আরেক হোটেল নিসর্গ হোটেল এন্ড রিসোটের হেড অফ অপারেশন মোহাম্মদ ফখরুল আলম শোভন আইবিনকে জানান, করোনার কারণে পর্যটক আগের মত আসে না। তার হোটেলে দপুর ১২টা পর্যন্ত রুম বুকিং হয়েছে প্রায় ৪৭ শতাংশ। ডিসকাউন্টে রুম বুকিং দেয়া হচ্ছে তার মধ্যে অনেক সময় রুম বুকিং বাতিলও করতে হয়।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, কক্সবাজার শহরে প্রায় সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে পর্যটকে কানায় কানায় পূর্ণ হয়েছে। সামনে পর্যটকের আগমন আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

কক্সবাজারের হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র আবু তালেব বলেন, আশা করছি মহামারি কাটিয়ে আমরা আবার নতুন করে শুরু করতে পারব। এখানে আবারও পর্যটকে টইটুম্বর থাকবে।

কক্সবাজার চেম্বারের দেয়া তথ্যমতে, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার শহর, ইনানী ও প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ী দ্বীপ মহেশখালীসহ জেলার বিভিন্ন নান্দনিক স্থানে গত ৪ দিনে ভ্রমণে আসেন প্রায় ৩ লাখেরও বেশি পর্যটক। এসব এলাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা।

কক্সবাজার চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনাকালীন সময়ে অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে পারলে পর্যটনের চলমান অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে পারব।

অন্যদিকে, বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমনে কর্মব্যস্ততা বেড়েছে সৈকত এলাকার ফটোগ্রাফার, জেডস্কি ও বিচ বাইক চালকদের। একই সঙ্গে জমজমাট ব্যবসা শুরু হয়েছে বার্মিজ মার্কেটগুলোতে। ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়ে পণ্যের কেনাবেচায় সরগরম শপিংমল।

এদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, ৯৮ শতাংশ পর্যটক বাড়ি ফেরার সময় কক্সবাজার থেকে শুঁটকি, আচার, রাখাইনদের তৈরি কাপড় এবং শামুক-ঝিনুকের গয়না কেনেন। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করা যায় এমন বিনোদনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে প্রতি সপ্তাহে পর্যটন খাতে ২০০ কোটি টাকা আয় সম্ভব।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি ওমর সুলতান জানান, সৈকতসহ শহর এলাকার ৪৮০টির বেশি হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজে দৈনিক রাত কাটাতে পারেন ৯৮ হাজার পর্যটক। এর বেশি হলে তখন পর্যটকদের আবাসন সংকট দেখা দেয়।

কক্সবাজার রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির উপদেষ্টা নঈমুল হক চৌধুরী বলেন, পর্যটকদের খাবার পরিবেশনের জন্য শহরে প্রায় ২০০ রেস্তোরাঁ আছে, শহরের বাইরে আছে আরও শতাধিক। প্রতিদিনের ২ বেলা খাবার ও এক বেলা নাশতার বিপরীতে একজন পর্যটকের গড়ে ৫০০ টাকা করে খরচ হয়। সেই হিসাবে অন্তত ২০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে