বিজিবি দিবসে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা
English

ব্রেকিং নিউজ
বিজিবি দিবসে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

বিজিবি দিবসে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দিবস উপলক্ষে ‘সীমান্ত গৌরব’ এ মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন বাহিনীটির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম।

রবিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজিবির রেজিমেন্টাল পতাকা উত্তোলন করে দিবসটির সূচনা করেন তিনি।

সকাল ১০টায় সেখানে বসেছে মহাপরিচালকের বিশেষ দরবার। করোনাভাইরাস মহামারীতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় এবার এই বিশেষ দরবার হচ্ছে ভার্চুয়ালি। দেশের সব প্রান্ত থেকে বিজিবি সদস্যরা ভার্চুয়ালি এ দরবারে যুক্ত হয়েছেন।

দরবার শেষে অনারারি সুবেদার মেজর থেকে অনারারি সহকারী পরিচালক এবং অনারারি সহকারী পরিচালক থেকে অনারারি উপপরিচালক পদে পদোন্নতিপ্রাপ্তদের র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেয়া হবে।

এছাড়া শ্রেষ্ঠ রিক্রুট প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণে অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জনকারী জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলগত ও ব্যক্তিগত পুরস্কার, অপারেশনাল কার্যক্রম, চোরাচালান রোধ এবং মাদকদ্রব্য আটকের ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য পুরস্কার, শ্রেষ্ঠ ব্যাটালিয়ন ও রানারআপ ব্যাটালিয়ন এবং শ্রেষ্ঠ কোম্পানি ও বিওপি কমান্ডারদের পুরস্কার দেয়া হবে।

মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিবার বিজিবি দিবস খুব জাঁকালোভাবে উদযাপন করা হয়। এবছর করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সীমিত আকারে দিবসটি পালন করছি আমরা।

তিনি বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিজিবির পক্ষ থেকে ১০০ জেলেকে নৌকা দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদের মাছ ধরার জন্য জাল দেয়া হবে। দেশের জেলেরা দাদনের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। জেলেরা যাতে দাদন থেকে মুক্ত হয়ে নিজেরা নিজেদের জীবিকা ধরে রাখতে পারে সেজন্য আমরা এ কর্মসূচি করেছি।

সীমান্ত হত্যা বন্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবি ডিজি সাফিনুল বলেন, সীমান্ত হত্যার বিষয়ে আমরা উভয় দেশের সঙ্গে আলোচনা করছি। সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় আনতে আমরা কূটনৈতিকভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এছাড়াও সীমান্তবর্তী এলাকার জনগণকে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে সচেতন করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে তারা অবৈধভাবে সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ না করেন।

তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় আনতে হলে সীমান্তবর্তী এলাকার জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে ও শিক্ষার মাধ্যমের উন্নত করে তোলা গেলে সীমান্ত হত্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

বিজিবির সাফল্য ও ব্যর্থতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে সারা বিশ্বে টেকনোলোজির দিক দিয়ে এগিয়ে গেছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশও এগিয়ে যাচ্ছে। টেকনোলোজির সঙ্গে বিজিবিকে এগিয়ে নিতে হলে বাহিনীতে আধুনিক টেকনোলোজি স্থাপন করা প্রয়োজন। এছাড়াও বিজিবির সব সদস্যের প্রয়োজন টেকনোলোজিক্যাল প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা। আমাদের দেশের সীমানায় কিছু স্থানে এখনও অরক্ষিত রয়েছে। অরক্ষিত জায়গাতে বিওপি স্থাপন করা গেলেও সীমান্তে হত্যাসহ নানা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

সোয়া ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই আধা সামরিক বাহিনীর নাম স্বাধীনতার আগে ছিল ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে এর নাম হয় বাংলাদেশ রাইফেলস। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিলখানায় রক্তাক্ত বিদ্রোহ এবং ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পর সীমান্তরক্ষা বাহিনীর নাম বদলে হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি। বাহিনীর পোশাক ও পতাকাতেও পরিবর্তন আসে। বিজিবি পুনর্গঠনের পর থেকে প্রতি বছর ২০ ডিসেম্বর বিজিবি দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন


Advertisement




Ads Manager

All Rights Resrved & Protected