ফুলে-ফেঁপে উঠেছে বিটকয়েনের দাম
English

ব্রেকিং নিউজ

ফুলে-ফেঁপে উঠেছে বিটকয়েনের দাম

বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ পেয়ে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে বিটকয়েনের দাম। ২০০৯ সালে চালু হওয়ার পর এই প্রথম বিটকয়েনের দাম ২০ হাজার ডলার ছড়িয়ে গেছে। স্টক মার্কেটের অস্থিরতায় মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে ভার্চুয়াল এই মুদ্রার দাম বেড়েছে ৮ হাজার ডলার বা ৬ লাখ ৮০ টাকা। বর্তমানে এক বিট কয়েনের দাম ২৮ হাজার মার্কিন ডলার; বাংলাদেশি মুদ্রায় যার দাম দাঁড়ায় ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

খবরে বলা হয়েছে, বিট কয়েন সম্পদের হিসাবে এরই মধ্যে ভিসা, মাস্টারকার্ড, ওয়ালমার্টের মতো প্রতিষ্ঠানকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে ধরে নেয়া হচ্ছে। মাত্র ১১দিন আগে ২০ হাজার ডলার ছাড়ায় ১ বিট কয়েনের দাম। এবার ৩০ হাজার ডলারের দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে এই ক্রিপ্টোকারেন্সি।

বিট কয়েন দাম বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনার ধাক্কা মোকাবিলায় মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার শুন্যের কাছাকাছি নামিয়ে এনেছে, এবং এ অবস্থা দীর্ঘ থাকবে বলে ধরে নেয়া হচ্ছে। বাজারে ডলারও দুর্বল হচ্ছে। এসব কারণেই বিনিয়োগকারীরা বিট কয়েনসহ অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ ঢালছেন।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বিট কয়েনের দাম ২০ হাজার ডলারে উঠা-নামা করছিল। ২৫ সেপ্টেম্বর রেকর্ড পতনে মুদ্রাটির দাম ১১ হাজার ডলারের নিচে নেমে আসে। চলতি বছরের শুরুর দিকে মুদ্রাটির দাম ছিল ১ হাজার ডলারের মতো। তারপর থেকে এর মূল্য হু হু করে বাড়তে থাকে। জুনে এক লাফে এর দাম ১০ হাজার ডলার বৃদ্ধি পায়।

পাউন্ড, ডলারসহ বাস্তব মুদ্রার মতো বিটকয়েনেও ব্যাপকভাবে ব্যবসা হয়। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোয় প্রভাবশালী বিনিয়োগকারীরা বিটকয়েনের দিকে দৃষ্টি দিচ্ছেন। বিশেষ করে যখন পেপাল ও ভিসার মতো প্রভাবশালী লেনদেন প্রতিষ্ঠান ক্রিপ্টোকারেন্সি গ্রহণ শুরু করেছে তখন অন্যরা তার সম্ভাবনার সুযোগ নিতে চাইছে।

যদিও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি অর্থ প্রদানের উপায় হিসেবে বিটকয়েনের ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি জানান, লোকেরা বিটকয়েনকে অর্থ প্রদানের জন্য ব্যবহার করছে, সেটি নিয়ে তিনি খুব ঘাবড়ে গেছেন। ভার্চুয়াল এ মুদ্রার মূল্যটি বিনিয়োগকারীদের চূড়ান্তভাবে অনুধাবন করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

বিটকয়েনের দাম এ বছর ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৯ সালে চালু হওয়ার পর এটির দাম বিভিন্ন সময় বেড়েছে ও কমেছে।

পরামর্শক সংস্থা কম্পিটিটিভ কমপ্লায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা ইয়ানা আফানাসিভা এটির দামে আগামী মাসগুলোয় আরো উত্থান-পতন হবে বলে প্রত্যাশা করেন।

তিনি বলেন, ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রকৃতিই এমন যে এখানে কিছু ব্যবসায়ী এটিকে কাজে লাগাতে পারেন। তবে এমন কোনো সরকার কিংবা আন্তর্জাতিক সংস্থা নেই, যারা এটির দামে লাগাম টেনে ধরতে পারেন।

ক্রিপ্টোকরেন্সি লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান কয়েনমেট্রোর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও কেভিন মারকো বলেন, সাধারণত সংকটের সময় মানুষ নগদ অর্থ মজুদ করতে চায়। কিন্তু প্রধান অর্থনীতিগুলো যখন তাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন করবে, তখন কে নিজের কাছে প্রচুর অর্থ রাখতে চাইবে? কভিড-১৯ মহামারী, মার্কিন নির্বাচন, ব্রেক্সিট ও সর্বোপরি ২০২০ সাল ডিজিটাল অর্থনীতি নিয়ে পূর্ব ধারণাগুলো ভেঙে দিয়েছে।

সূত্র: সিএনএন।

শেয়ার করুন


Advertisement




Ads Manager

All Rights Resrved & Protected