পূরণ হয়নি অসহায়া একজন নারীর স্বপ্ন পূরণ হয়নি অসহায়া একজন নারীর স্বপ্ন

রবিবার, ১৩ Jun ২০২১, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন







পূরণ হয়নি অসহায়া একজন নারীর স্বপ্ন

পূরণ হয়নি অসহায়া একজন নারীর স্বপ্ন

পূরণ হয়নি অসহায়া একজন নারীর স্বপ্ন
পূরণ হয়নি অসহায়া একজন নারীর স্বপ্ন

সিরাজগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ পাক বাহিনী ক্যাপ্টেন আরিফের নেতৃত্বে  শহর ও পার্শ্ববতী এলাকায় প্রথম প্রবেশ করে দখল করে নেয়। দখলদার বাহিনী এদেশীয় রাজাকারদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গণধর্ষণ, গণহত্যা, নির্যাতন চালিয়ে একের পর এক বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিতে থাকে। এ খবরে আতংকিত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোজে ছুটতে থাকে দিক-বিদিক। সমাজ-সংসার আর গ্রহণ না করায় ভেঙেছে তাদের সুখের সংসার।

দেশ মাতৃকার মুক্তির জন্য যেসব নারীর ত্যাগ তাদের মধ্যে রহিমা বেওয়াও অন্যতম একজন। ৭১’সালের পাকিস্তানি সেনার হাতে নির্যাতনের ভয়াল দুঃসহ স্মৃতির কথা স্মরণ করতে গিয়ে স্তব্ধ হয়ে যান বার বার, বীর মুক্তিযোদ্ধা বীরাঙ্গনা রহিমা সেই ভয়াল স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে হাউ মাউ করে কেঁদে উঠলেন।

সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার চককোবদাসপাড়া এলাকার মৃত রিয়াজ উদ্দিনের স্ত্রী রহিমা বেওয়া। সবেমাত্র চোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে নতুন বিয়ে করা নারী, বয়স তার ১৭ কি ১৮ হবে। তখন রহিমার গর্ভে বাড়ছিল ৫ মাসের সন্তান। হানাদার বাহিনীর সিরাজগঞ্জ দখলের খবর শুনে আর সবার মতো নিরাপদ স্থানে ছুটতে থাকেন রহিমা। ৭১ সালের ২৮ এপ্রিল একই গ্রামের কয়েকজন রাজাকার হানাদার বাহিনীদের সাথে নিয়ে রহিমাকে ধরে নিয়ে যায় পাকিস্তানী সেনা ক্যাম্পে। এক সপ্তাহ আটক করে পালাক্রমে চলে গণধর্ষণ। ফিরে আসার পরে স্বামী রিয়াজ উদ্দিনও গ্রহন করেনি তাকে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা বীরঙ্গনা রহিমা জানান, পাশবিক নির্যাতনকালে জ্ঞান হারিয়ে যাওয়ার পরও তাকে রেহাই দেয়নি নরপিশাচরা। এক সপ্তাহ এই ক্যাম্পে রহিমার পর চলে বর্বোরোচিত পৈশাচিক নির্যাতন। দৈনিক নির্যাতনের শিকার রহিমার গর্ভের ৫ মাসের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়।

রহিমা আরো বলেন, এখন সেই নির্যাতনের ভয়াল স্মৃতি মন থেকে মুছে ফেলতে পারেনি। সেই দুঃসহ স্মৃতির কথা স্মরণ করে আজও  আঁতকে ওঠেন তিনি, বারবার কেঁদে ওঠে মন ও নয়ন।

তিনি আরো বলেন,আমার ইজ্জতের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছি, স্বাধীনতা ৫০বছর পার হয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু সিরাজগঞ্জ কলেজ মাঠে এসে আমাকে বুকে টেনে নিয়ে বলেছিলেন “মা তোমার চাওয়া অনুযায়ী আমি তোমায় একটি বাড়ি করে দিবো।’ এর পরে দেশের শত্রুরা আমার প্রিয় ছেলে মুজিবকে মেরে ফেলায় স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলে এখনও পাইনি সেই বাড়িটি।

স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরে পেয়েছি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধার সনদ। এখন বয়স বেড়েছে তাই শরীরে বেড়েছে নানান রোগ। ভাতার টাকার সিংহভাগ তাই এখন নিজের চিকিৎসা করতেই শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে মেয়ের বাড়িতে খুব কষ্টে জীবন-যাপন করছি কিন্তু সনদে মেয়েকে চাকরি নিয়ে দিলেও ভাতার টাকা মেয়েকে না দেওয়ায় মেয়েটা দেখতে পারে না।এখন ছেলের বাসায় থাকি।ছেলে এখন আমাকে দেখাশোনা করে, ছেলের বউও আমাকে ভালবাসে নিজের মায়ের মতো।

তিনি  আরো বলেন, আমার এখন মৃত্যুর আগে আপনাদের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর বেটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই চাওয়া, বঙ্গবন্ধু সিরাজগঞ্জে এসে আ্মাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেই অনুযায়ী আমাকে একটি বাড়ি করে দেন। অন্তত যেন স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে নিজের একটি বাড়িতে একদিন থেকে মরতে পারি।

শেয়ার করুন




All Rights Resrved & Protected