বাবা-মায়ের প্রত্যাখ্যান,বিরল রোগ নিয়েও মডেলিংয়ে খ্যাতির শিখরে হুবেই বাবা-মায়ের প্রত্যাখ্যান,বিরল রোগ নিয়েও মডেলিংয়ে খ্যাতির শিখরে হুবেই

মঙ্গলবার, ২২ Jun ২০২১, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন







বাবা-মায়ের প্রত্যাখ্যান,বিরল রোগ নিয়েও মডেলিংয়ে খ্যাতির শিখরে হুবেই

বাবা-মায়ের প্রত্যাখ্যান,বিরল রোগ নিয়েও মডেলিংয়ে খ্যাতির শিখরে হুবেই

ভোগ-এর মডেল হুয়েই অ্যাবিং
ভোগ-এর মডেল হুয়েই অ্যাবিং

জন্মগত ভাবে জিনের অসুখ অ্যালবিনিজমে আক্রান্ত হুয়েই। তবে শারীরিক যাবতীয় অস্বাভাবিকত্ব নিয়েই তিনি আজ খ্যাতির শিখরে। চীনা ভাষায় তার নামের মানে হিম সুন্দরী। ভোগ-এর মডেল হুয়েই অ্যাবিং আক্ষরিক অর্থেও তাই।

বয়স মাত্র ১৬। তবে ১১ বছর বয়স থেকেই মডেলিং করছেন হুয়েই। তিনি মনে করেন, মডেলিংয়ের কাজের মধ্যে দিয়েই লাখ লাখ অ্যালবিনোকে তিনি অনুপ্রাণিত করতে পারেন। তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের জবাবও দিতে পারেন।

এই রোগে শরীর নিজের স্বাভাবিক রং হারায়। ত্বকের জরুরি উপাদান মেলানিনের অভাবে স্বাভাবিকত্ব হারায় ত্বক, চুল, চোখ। দৃষ্টিশক্তিতেও এর প্রভাব পড়ে। এই রোগে আক্রান্ত হুয়েইয়ের দৃষ্টিশক্তিও মাত্র ১০ শতাংশ। বেশি আলো সহ্য করতে পারেন না তিনি। তবুও জমকালো ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোয় তার জুড়ি নেই।

শ্যুটিংয়ের জন্য জরুরি অনেক বেশি আলো । চোখ বাঁচাতে তাই হুয়েই বেশির ভাগ ছবিই তোলেন চোখ বন্ধ করে। হুয়েইয়ের কথায়, “চোখ না বুজলে ক্যামেরার আলোয় এমনিই চোখ চেপে বন্ধ করে ফেলি। তখন ছবিটা আর সুন্দর ওঠে না।”

যতো বাধাই আসুক, মডেল হিসেবে অবশ্য ইতিমধ্যেই বেশ নাম করেছেন হুয়েই। ফ্যাশন দুনিয়ার প্রথম সারির পত্রিকা ভোগ-এর হয়ে মডেলিং করেছেন। ডিজাইনার মহলেও বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে তার। কাজ করেছেন দুনিয়ার সেরা ডিজাইনার এবং ফটোগ্রাফারদের সঙ্গে।

অথচ জন্মের পর হুয়েইকে অস্বীকার করেছিলেন তার বাবা-মা। জীবনের প্রথম তিনটি বছর অনাথালয়ে কেটেছে হুয়েইয়ের।

নিজের জন্মদিন জানেন না হুয়েই। এক বছর আগে পর্যন্ত নিজের বয়স সম্পর্কেও কোনও ধারণা ছিল না তার। হাতের এক্সরে করাতে গিয়ে চিকিৎসকরা তার বয়স সম্পর্কে একটি ধারণা পান। গত বছর হুয়েই জানতে পারেন তার বয়স ১৫-এর আশেপাশে।

এক সাক্ষাৎকারে হুয়েই বলেছিলেন, “আমার জন্মের সময়ে চীনে এক সন্তান নীতি চলছিল। একবার সন্তান হলে আর দ্বিতীয় সন্তানের জন্য সরকারি সুযোগ সুবিধা পাওয়া যেত না। এই পরিস্থিতিতে এই রোগ নিয়ে জন্মেছিলাম আমি। বাবা-মা আমাকে দুর্ভাগ্য ছাড়া আর কি ই বা মনে করতেন?”

জন্মের পরই হুয়েইকে অনাথালয়ে রেখে এসেছিলেন তার বাবা-মা। হুয়েই নামকরণ করেন সেই অনাথালয়ের এক কর্মী। চীনে ‘হু’ শব্দের অর্থ বরফ। আর ‘ই’ মানে সুন্দর। হুয়েই মনে করেন, এর থেকে ভাল নাম তার আর হতেই পারত না।

তিন বছর বয়সে তাকে দত্তক নেন নেদারল্যান্ডসের এক নারী। নতুন মা এবং বোনের সঙ্গে চীন থেকে নেদারল্যান্ডসে চলে আসেন হুয়েই।

ঘটনাচক্রেই মডেলিংয়ে আসেন হুয়েই। হংকংয়ের এক ডিজাইনারের সঙ্গে জানাশোনা ছিল তার মায়ের। সেই ডিজাইনার ‘পারফেক্ট ইমপারফেকশন’ নামে একটি ফ্যাশন শোয়ের আয়োজন করেন। তথাকথিত কিছু শারীরিক অস্বাভাবিকত্ব সত্ত্বেও কীভাবে ফ্যাশনকে ভালবাসা যায়, তা নিয়েই ফ্যাশন শো।

হুয়েই জানিয়েছেন, ওই ডিজাইনারের ছেলের ঠোঁটের সমস্যা ছিল। তিনি এমন পোশাক বানাতে চেয়েছিলেন, যাতে পোশাক ছেড়ে ঠোঁটের দিকে নজর না যায়। হুয়েইকে ওই বিশেষ ফ্যাশন শোয়ে যোগ দিতে বলেন তিনি। হুয়েই জানিয়েছেন, বছর চারেক আগের সেই অভিজ্ঞতার কথা জীবনে ভুলবেন না তিনি।

ফ্যাশন শোয়ে নজরে পড়েন হুয়েই। পর পর ডাক পেতে শুরু করেন ফ্যাশন ফটোশ্যুটের জন্য। বেশ কিছু মডেলিং এজেন্সিও যোগাযোগ করতে শুরু করে তাঁর সঙ্গে। তাঁর করা একটি ফটোশ্যুটের ছবি প্রকাশিত হয় ফ্যাশন পত্রিকা ভোগ-এ।

হুয়েই জানিয়েছেন, ‘ভোগ’ সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না তার। কেন তাতে ছবি বেরনোর জন্য সবাই এত উৎসুক, তা তখনও জানতেনই না তিনি। তবে ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেন। হুয়েই জানিয়েছেন, ফ্যাশন দুনিয়ায় দেখতে আলাদা হওয়া যে আসলে আশীর্বাদ তা এখন বুঝেছেন তিনি।

বিরল জিন রোগ অ্যালবিনিজমে আক্রান্ত হন প্রতি ১৭ হাজারে একজন। হুয়েই জানিয়েছেন, এই রোগে আক্রান্তদের রীতিমতো ঠাট্টা করা হয়। অনেক সময় ভূত, ভিনগ্রহী জাতীয় মন্তব্যও করা হয়। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও যে শীর্ষে যাওয়া যায় নিজের মডেলিংয়ের মধ্যে দিয়ে তার সেই বার্তা পৌঁছে দিতে চান তিনি।

সূত্র: আনন্দবাজার

শেয়ার করুন




All Rights Resrved & Protected