বিরোধী দলের যে কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হলেই তাকে জীবন হারাতে হয়: রিজভী
English

বিরোধী দলের যে কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হলেই তাকে জীবন হারাতে হয়: রিজভী

বিরোধী দলের যে কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হলেই তাকে জীবন হারাতে হয়: রিজভী

‘বিরোধী দলের যে কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হলেই বা তার পক্ষে কেউ প্রচারণা চালাতে গেলে তাকে জীবন হারাতে হয় কিংবা চিরদিনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করতে হয়। বিনাভোটে ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী সরকার এখন বেপরোয়া।’

রবিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ওরা (সরকার) নির্বাচন ঘোষণা করবে কিন্তু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে দিবে না। বিরোধী দলের কেউ যদি সাহস করে নির্বাচনে নামে তাহলে তার ওপর নেমে আসে নির্মম নির্যাতনের খড়গ।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল জেলাধীন গোপালপুর পৌর জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী ও সাবেক ৪-৫-৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলর হাবিজা বেগমকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা কয়েকদিন আগে মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে গুরুতর আহত করে। গতরাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দ্বারা সংঘটিত এই বর্বরোচিত ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, এদেশ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন নামক শব্দটি চিরতরে উচ্ছেদের পর কোনভাবেই কেউ যেন এ বিষয়ে টু শব্দ করতে না পারে সেজন্য দেশব্যাপী বিভিন্ন জনপদে সশস্ত্র আওয়ামী ক্যাডারদের মোতায়েন করেছে বর্তমান সরকার।

নিশিরাতের ভোটের সরকার ও বেহায়া নির্বাচন কমিশনের যৌথ প্রযোজনায় এখন চলছে নির্বাচনী সার্কাস। আগের রাতে ভোট হলেও, ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে না গেলেও, অথবা কোন কেন্দ্রে শতভাগের বেশী জোরপূর্বক ভোট কাস্টিং করলেও সরকার ও কমিশনের বয়ান একই যে, ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। তারা এই বয়ানটি পূর্বেই টাইপ করে রাখে।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব জানে বাংলাদেশে ৩০ ডিসেম্বরের ভোট আগের রাতেই হয়েছে। গণমাধ্যমসহ সকল মাধ্যমে তা প্রকাশিত হলেও সরকারের ভাঁড় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এখনও নির্লজ্জ মিথ্যাচার করছে। এই ইসির অধীনে একটি নির্বাচনও সুষ্ঠু হয়নি। সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠন করে ইসির অপকর্মের শাস্তির যে দাবি নাগরিক সমাজ করেছে তা এড়ানোর জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ আওয়ামী নেতারা গায়ের জোরে সত্যকে চাপা দিতে চাচ্ছে। গণতন্ত্র ধ্বংসে নব্য বাকশালী সরকার ও তাদের মোসাহেব নির্বাচন কমিশনের অপকর্ম শয়তানকেও টপকে গেছে। এই অপকর্মের বিচার একদিন হবেই।

তিনি আরো বলেন, সারাদেশে এখন দুস্কৃতিকারিরাই আওয়ামী লীগ করে। তাই জনগণ এদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে; পেশাদার ঘাতক, লুন্ঠনকারী, নিপীড়ণকারী ও অন্যের সম্পদ হরণকারীদের দ্বারাই এখন আওয়ামী লীগ চলছে। সুতরাং বাংলাদেশে ‘৭১ এর ৯ মাসে যে পরিবেশ বিরাজ করছিল, এখন বাংলাদেশে সেই পরিবেশই বিরাজ করছে।

শেয়ার করুন


Advertisement




Ads Manager

All Rights Resrved & Protected