আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্তু মুক্তি পাইনি: জিএম কাদের
English

আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্তু মুক্তি পাইনি: জিএম কাদের

আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্তু মুক্তি পাইনি: জিএম কাদের

‘শোষণ, বৈষম্য, জুলুম আর নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিলো। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশের মানুষ কী স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পেরেছেন? আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্তু মুক্তি পাইনি। এখনো সমাজে বৈষম্য ও বঞ্চনা বিদ্যমান।’

বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) জাপার বনানী কার্যালয়ে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ৯১ পরবর্তী সরকারগুলোর শাসনামলে সরকারী দল না করলে চাকরি মেলে না, ব্যবসা মেলে না, অন্যায় করলে বিচারের মুখোমুখি হতে হয় না। সুশাসন ও আইনের শাসনের অভাবে সবার জন্য সমানভাবে আইন প্রয়োগ হয়না। অথচ এরশাদ শাসনামলে সামাজিক বৈষম্য ছিলনা, জীবনের নিরাপত্তার অভাব ছিলনা। সরকারী কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পেরেছেন। চাকরী, ব্যবসা ও আইনের চোখে সবাই সমান ছিলো।

পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দীন আহমদ বাবলু বলেন, দেশের মানুষ স্বাধীনতার সুফল পায়নি। এখনো মানুষের বাক স্বাধীনতা নেই, সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা নেই। আমরা প্রাণ খুলে কথা বলতে চাই, আমাদের কষ্ট আর না পাওয়ার কথা নির্ভয়ে বলতে চাই। এখন কথা বলতে গেলে ভাবতে হয়, রাজনীতি করতে ভাবতে হয়। স্বাধীন দেশে নির্ভয়ে কথা বলার জন্য ৭০-৭১ সালের মত রাজপথে নামতে হবে।

জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির আহবায়ক শেরিফা কাদের এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এসময় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুসংহত করতেই পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কাজ করেছেন। আমরা সকল বাঁধা বিপত্তি উপক্ষো করে পল্লীবন্ধুর আদর্শ নিয়ে এগিয়ে যাবো। গণমানুষের আশা আকাংখা পূরণ করতেই জাতীয় পার্টির রাজনীতি। কোন ষড়যন্ত্র জাতীয় পার্টির ঐক্যে ফাটল ধরাতে পারবেনা।

কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে পল্লীবন্ধুর কল্যাণময় কর্মসূচি উজ্জল হয়ে আছে। তিনি বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশে কাজ করলে রাষ্ট্র ক্ষমতা বেশি দূরে নয়। পল্লীবন্ধুর নতুন বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে আমরা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবো।

জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা শেরিফা কাদের-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির কো- চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন। সভা পরিচালনা করেন- জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির সদস্য সচিব আলাউদ্দিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউ তাজ রহমান, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, নাজমা আক্তার, আলমগীর সিকদার লোটন, এমরান হোসেন মিয়া, জহিরুল ইসলাম জহির, সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক, উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য রওশন আরা মান্নান এমপি, ড. নুরুল আজহার, এম.এ. কুদ্দুস খান, মাহমুদুর রহমান মাহমুদ, জহিরুল আলম রুবেল, মেহেরুন্নেসা খান হেনা পন্নি, হারুন আর রশীদ, ভাইস চেয়ারম্যান- আহসান আদেলুর রহমান এমপি, শেখ আলমগীর হোসেন, এম.এ. মুনিম চৌধুরী বাবু, সালমা হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, ইকবাল হোসেন তাপস, ফকরুল আহসান শাহজাদা, মো. বেলাল হোসেন, আমির হোসেন ভূঁইয়া প্রমুখ।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপার নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের পক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউ তাজ রহমান, এ্যাড. মোঃ রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, নাজমা আক্তার এমপি, এমরান হোসেন মিয়া, জহিরুল ইসলাম জহির, উপদেষ্টা- জহিরুল আলম রুবেল, ভাইস চেয়ারম্যান শেখ আলমগীর হোসেন, সালমা হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, ফকরুল আহসান শাহজাদা, মোঃ বেলাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হেলাল উদ্দিন, দফতর সম্পাদক-২ এম.এ. রাজ্জাক খান, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য আজহার সরকার, যুগ্ম সাংগঠনিক আক্তার হোসেন, এম.এ. সুবহান, আবু সাদেক বাদল, কেন্দ্রীয় নেতা ফারুক শেঠ, জিয়াউর রহমান বিপুল, ছাত্র সমাজ-এর সাধারণ আল মামুন প্রমুখ।

শেয়ার করুন


Advertisement




Ads Manager

All Rights Resrved & Protected