রঙে রঙিন পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষ ১৪২৮।

শুভ-নববর্ষ-১৪২৮
শুভ-নববর্ষ-১৪২৮

বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিনটি বরণে লাল–সাদার মিশ্রণ রয়েছে, তবে সে ধারায় যোগ হয়েছে আরও অনেক রং। পহেলা বৈশাখের নতুন পোশাক তাই নানা রঙে রঙিন। উৎসবের আনন্দে উজ্জ্বল। এবার নববর্ষের পোশাকের রং–নকশার ধারাতেও আছে নতুনত্ব। 

নতুন বাংলা বছর বরণ করে নেওয়াটা চিরায়ত এক উৎসব বাঙালির। সাজপোশাক, খাওয়াদাওয়া, আনন্দ—সবকিছুতেই উৎসবের ছোঁয়া। বৈশাখ মানে শুধু লাল-সাদা আর এখন নেই। লাল–সাদার সঙ্গে যোগ হয় আরও অনেক রং। নানা বর্ণে বর্ণিল পয়লা বৈশাখ। এটাই এখন বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপনের মূলমন্ত্র।

 পহেলা বৈশাখে নারীদের পোশাকের বেলায় শাড়ি তো এগিয়েই, তবে শাড়ি পরা আর শাড়ির নকশাতেও এসেছে ভিন্ন ধারা। সালোয়ার-কামিজ, টপ, স্কার্টও কম পরা হয় না। এগুলোর কাটে এখন নেই ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম। ফ্যাশন হাউসগুলো বৈশাখের পোশাকের নকশা এবার শুধু রঙের ওপর নয়, বিভিন্ন মোটিফ ধরেই করেছে।

নকশায় ভিন্নতা
ফুল, আলপনা, জ্যামিতিক নকশা প্রতিবছরই থাকে। বৈশাখের সময় দেশীয় ঐতিহ্য নিয়েই কাজ করা হয় মূলত। একই নকশাকে ডিজাইনাররা নতুন নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরছেন। যেমন ধরা যাক ফুল। বৈশাখের শাড়ি থেকে টপ—সব পোশাকেই থাকবে ফুলের ছড়াছড়ি। কখনো ফিউশনের মাধ্যমে ফুটে উঠবে ছাপা নকশা বা ডিজিটাল প্রিন্ট। কখনোবা সুই–সুতায় ফুটে উঠবে গতানুগতিকভাবেই।  ওড়নার বদলে কোটি ও কেপের ব্যবহারও এবার নজর কাড়বে। তবে অনেক নকশার মধ্যে শুধু একটি রং দিয়ে বানানো পোশাকও আছে বাজারে। লম্বা জামা বা কুর্তা যদি একরঙা হয়, গয়না দিয়ে ইচ্ছেমতো সাজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ বেড়ে যায়।

টানা নকশার শাড়িও আছে। আবার কুঁচির অংশটুকুই হয়তো সাজানো হয়েছে কখনো। জ্যামিতিক নকশা এবার প্রাধান্য পাবে। শুধু শাড়ি নয়, পেটিকোটকেও দেওয়া হচ্ছে প্রাধান্য। সিনেমাচিত্রের মাধ্যমে পুরো পেটিকোটকে নাটকীয়তা এনে দিয়েছে ফ্যাশন হাউস যাত্রা। শাড়ির আঁচল ও পাড়েও আছে সিনেমাচিত্র। এ ছাড়া শাড়ি ও পোশাকের নকশায় থাকবে জামদানি মোটিফ, কাঁথা স্টিচ, প্যাচওয়ার্ক, ফুল, জ্যামিতিক নকশা, গাজী পটের নকশা, পুরোনো দিনের স্থাপত্য, চেক, অনুভূমিক রেখাও। দেশালের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার ইশরাত জাহান জানালেন, নতুন নকশা হিসেবে শাড়িতে ধরা পড়বে মুহূর্ত, গল্প, মানুষের অবয়ব/কাঠামো আর দৈনন্দিন জীবনের নানা ভঙ্গিমা। গ্রাম ও শহরের নানা পেশার মানুষের মুহূর্তগুলো শাড়ির আঁচলে স্থান পাবে। ব্লক, স্ক্রিনপ্রিন্ট, হাতের কাজ, টাই-ডাই, হ্যান্ড পেইন্ট, কারচুপি, মেশিন এমব্রয়ডারি—সবই থাকছে পোশাকে। কমলা, ম্যাজেন্টা, নীল, কচি সবুজ, হলুদ—সব রংই নকশার ওপর বসে যাবে।

মাটির ঘরের দাওয়ায় বসে করা গল্পই যেন উঠে এসেছে শাড়ির আঁচলে। শাড়ি ও গয়না: দেশাল

কাটছাঁট

লেয়ারিং এবার কামিজের চেহারা পাল্টে দেবে। লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে পোশাকের কাট ও রূপ—দুটিতেই আসবে নতুনত্ব। ফ্যাশন হাউস যাত্রার ডিজাইনার শামা কোন জানালেন, সিনেমার ছবি ও রিকশাচিত্র এবারের বৈশাখের অন্যতম নকশা। জনপ্রিয় ধারার পপ আর্ট সংস্কৃতি ফুটিয়ে তোলা হবে এই নকশার মাধ্যমে। উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার দেখা যাবে এবার সব পোশাকেই। লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে সেই উজ্জ্বল রংগুলোকেই একটু কমানো যাবে। অতিরিক্ত উজ্জ্বল রং থাকলে কামিজ বা টপের লেয়ারিংয়ের কোনো একটা অংশে একটি রং ব্যবহার করা হয়েছে এ কারণে। কিমানো কাট, সোজা কাট, এ লাইন, পঞ্চ কাট, অফ শোল্ডার ফিটেড টপ, আনারকলি—সবই থাকবে পোশাকে।

পোশাকে সিনেমাচিত্রের প্রিন্ট। মডেল: সায়রা। পোশাক: যাত্রা

কামিজ, টপ বা ব্লাউজের হাতায় থাকবে বিভিন্ন কাটের নকশা। গতানুগতিক ধারার ব্লাউজের বদলে ক্রপ টপ, শার্ট ব্লাউজ, টিলা টপ দিয়ে অনায়াসে শাড়ি পরে ফেলতে পারেন। হাতাটা একটু কায়দা করে বানান। বেলবটম হাতা, র‌্যাফর বা প্লিট ব্যবহার করা, অফ শোল্ডার ইত্যাদি কাট এবার চলবে।

পোশাকে সিনেমাচিত্রের প্রিন্ট। মডেল: সায়রা। পোশাক: যাত্রা
পোশাকে সিনেমাচিত্রের প্রিন্ট। মডেল: সায়রা। পোশাক: যাত্রা

কাপড়
সুতি নিঃসন্দেহে প্রথম পছন্দ এখন সবার কাছে। রাতের অনুষ্ঠানের জন্য মসলিন অথবা সিল্কের শাড়ি ভালো। এছাড়া আছে ডুপিয়ান সিল্ক, কোটা, ভয়েল এবং লিনেনের তৈরি শাড়িও।

বৈশাখে লাল–সাদা রং আর শাড়ির আবেদন চিরন্তন। শাড়ি: আড়ং, গয়না: সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি

বৈশাখে লাল–সাদা রং আর শাড়ির আবেদন চিরন্তন। শাড়ি: আড়ং, গয়না: সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি