পাবজি ” ”ফ্রি ফায়ার ” গেমস ও শিশু-কিশোরের ক্ষিপ্রতা
English

পাবজি ” ”ফ্রি ফায়ার ” গেমস ও শিশু-কিশোরের ক্ষিপ্রতা

পাবজি ” ”ফ্রি ফায়ার ” গেমস ও শিশু-কিশোরের ক্ষিপ্রতা

পাবজি ” ”ফ্রি ফায়ার ” গেমস ও শিশু-কিশোরের ক্ষিপ্রতা
পাবজি ” ”ফ্রি ফায়ার ” গেমস ও শিশু-কিশোরের ক্ষিপ্রতা

মোঃ মশিউর রহমান বিপুল : PUBG যার পূর্ণ নাম হলো Player Unknown Battle Ground . বিশ্বের যে কোন প্লেয়ার তাঁর নিজের নাম গোপন করে এই গেম খেলতে পারে। পিইউবিজি কর্পোরেশনের ও দক্ষিন কোরিয়ার আবিষ্কৃত একটি গেম যা অনলাইনের মাধ্যমে খেলা হয়ে থাকে। গেমসটির পরিচালক ব্রেন্ডন গ্রিন ও সংগীত রচয়িতা টম সল্টি। আয়ারল্যান্ডের বাসিন্দা ব্রেন্ডন গ্রিন নিজেও একজন গেমস আসক্ত ব্যক্তি ছিলেন। PUBG মূলতঃ ২০১৭ সালের ২০ ডিসেম্বর রিলিজ করা হয়। ২০১৭-২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত বিশ্বে সেরা জনপ্রিয় গেম হয়ে উঠা PUBG যা একবছরে বিক্রি হয় ৫০ মিলিয়ন গেম্স্ এবং আয় করে এক মাসে ১০৩ মিলিয়ন ডলার।

২০১৮ সালের ২০শে জুনের তথ্য অনুসারে দৈনিক প্রায় ৮৭ মিলিয়ন মানুষ এই গেম খেলে।PUBG গেমস নিয়ে বিশ্বের প্রায় সব কটা দেশেই রয়েছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা। শিশু -কিশোর , যুবকরা মারাত্মক ভাবে এই PUBG আগ্রাসনের শিকার।
বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশেও পড়েছে এর বিশাল প্রভাব। ইন্টারনেট ও মোবাইলে ফোনের অহরহতার কারনেই এই গেমসের প্রভাব বেড়েছে। হিংস্র এই PUBG গেমসে মারাত্মক ভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছে আমাদের দেশের শিশু কিশোররা। ফাইট , যুদ্ধ , কিলিং সহ অতিমাত্রায় হিংস্রতায় ভরা PUBG গেমস।

অভিবাবকদের অবহেলার কারনেই শিশু -কিশোর যুবকরা PUBG তে আসক্ত হচ্ছে। PUBG খেললে শারীরিক , মানসিক ভাবে মারাত্মক ভাবে বিকৃতগ্রস্থ হচ্ছে তাঁরা। অধিকাংশ শিশু -কিশোররা নিজস্ব সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। PUBG খেলায় আসক্তরা সামাজিকতায় যুক্ত হতে পারে না। খাওয়া , ঘুম , কারো সাথে মেলা -মেশা , সুন্দর আচার ব্যবহার থেকে মারাত্মক ভাবে ধীরে ধীরে অবস্বাদ গ্রস্থ হয়ে মানসিক ও স্বাস্থ্যগত বিপর্যয়ে উপনীত হয়।

PUBG দ্বারা পাচ্ছে ভংয়কর মারামারি , অস্ত্র ব্যবহার ও যুদ্ধ , ধ্বংসের মতো আগাম শিক্ষা যা আমাদের দেশের শিশু কিশোরদের জন অনভিপ্রেত।
মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা যেখানে লেখা পড়া করার খরচের জন্য বাবা-মা-কে হিমশিম খেতে হয় সেখানে PUBG গেম খেলার টাকার বায়না মিটাতে হিমশিম খেতে হয় -মোবাইলের ইন্টারনেট ডাটা , বিদ্যুৎ সহ , গেমসের জন্য ও অনেক আনুষাঙ্গিক খরচ হয়। গেমসের খরচ না পেলে তাঁরা পথচ্যুত হয়ে যাচ্ছে কিংবা ডিপ্রেসেড হয়ে আত্নহত্যার মতো জঘন্য
পথ বেছে নিচ্ছে।

গত ২১ মে ২০২১ ইং (শুক্রবার) চাঁদপুরের মামুন(১৪) নামে এক কিশোর মোবাইলে “ফ্রি ফায়ার”গেইম খেলার জন্য এমবি কেনার টাকা না পেয়ে মায়ের সাথে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে।
শিশু কিশোরদের এই আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে ইসরায়েল , পাকিস্তান , ইন্ডিয়া , জর্দান , নেপাল ,চায়না , আফগানিস্থান অলরেডি ইতি মধ্যে গেমটিকে নিষিদ্ধ করেছে। আমাদের দেশের শিশু কিশোরদের ভবিষৎ ও তাঁদের সুন্দর জীবন বাঁচাতে অতিসত্তর PUBG গেমটিকে নিষিদ্ধ করা উচিত। এ জন্য সর্বমহলের অভিভাবকদের সজাগ দৃষ্টিতে শক্ত উদ্যোগ নেয়া উচিৎ।
আমাদের সকারেরও উচিত বিষয়টি বিবেচনা করার।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী “মোস্তাফা জব্বার”এই বিষয়ে জানান’
“গেম বন্ধ করা সমাধান না, সন্তানকে বুঝিয়ে সঠিক পথে আনতে হবে। গেমগুলো এদেশে বন্ধ করা হলেও, তারা “ভিপিএন”এর মতো মাধ্যম দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে ঠিকই চালাবে। আমরা গেম ও সেই সব মাধ্যম বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করব”।এদেশের প্রযুক্তিবিদরাও এই ব্যাপারে বিকল্প উপায়ে ভাবার পরামর্শ দিচ্ছেন। যেন কৌশলি কোনো উপায় অবলম্বন করে তাদের এসব আসক্তি থেকে নিরাপদ রাখা যায়।

এছাড়াও “বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন” পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেইমগুলোর ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বলে জানিয়েছেন।
উনাদের কথায় যুক্তি থাকলেও আমাদের দাবী সরাসরি বাংলাদেশে গেমসটি বন্ধ করার।
আমরা চাই শিশু কিশোরদের ক্ষিপ্রতা থেকে মুক্তি –
-চাই তাঁদের সুন্দর জীবন।
আজকের শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ।

শেয়ার করুন


Advertisement




Ads Manager

All Rights Resrved & Protected