‘আনন্দের জন্য সেক্স করা পাপ’
English

‘আনন্দের জন্য সেক্স করা পাপ’

‘আনন্দের জন্য সেক্স করা পাপ’

১/ “আমার প্রেমিক-ভাগ্য খুব খারাপ। একটা যেন তেন প্রেমিক ছিল, সেটিকে লক ডাউনের পর বিদেয় করতে হয়েছে। আমি ঘর থেকে বেরোচ্ছি না, এ তার সইছিল না। সে তার চাকরি করতে বাইরে বেরোচ্ছে, অথচ আমি ঘরে বসে দিব্যি কোভিড এড়িয়ে চলছি, আমার জীবনকে কেন আমি তার জীবনের চেয়েও মূল্যবান ভাবছি!

আমি বলেছি, আমি যেহেতু বাইরে চাকরি ব্যবসা ইত্যাদি করছি না, আমার বাইরে বেরোনোর দরকার পড়ছে না। আর আমি যদি ঘরে থেকে কোভিড এড়াতে পারি তার তো খুশি হওয়ার কথা, কিন্তু এত সে অখুশি কেন। কেন আমি তার সঙ্গে দেখা করছি না। বলেছি ভ্যাক্সিনের আগে দেখা সাক্ষাৎ কারও সঙ্গেই করবো না। আমার সঙ্গেও না? না তোমার সঙ্গেও না। রেগে আগুন হয়ে গেল। সে আগুন আমি আর নেভাতে চাইনি।

প্রেম করার জন্য দেশে হোক, বিদেশে হোক, এমন সব অযোগ্য অপদার্থ লোক আমি বেছেছি, এখন ভাবলে নিজের ওপরই রাগ হয়। আমি বেছেছি বলাটা ঠিক হবে না, আমি কাউকে বাছিনি। কেউ সামনে পড়েছে, আগ্রহ দেখিয়েছে, ফিরিয়ে দিলে কায়দা করে ভিড়েছে, তাদেরই সঙ্গে নিয়ে আমি পথ হেঁটেছি।

প্রেমিক বলি তাদের, আসলে প্রেমিক কি কেউই ছিল? গভীর করে ভাবলে বুঝি, কেউই সত্যিকার প্রেমিক ছিল না। আমিই তাদের প্রেমিক ভেবে সুখ পেয়েছি। আমার ওই সুখটার হয়তো দরকার ছিল”।

২/ “অ্যান্থনি কুইন ওয়ারনার নাশভিলে একা থাকতেন। কম্পিউটার নষ্ট হলে এ বাড়ি ও বাড়ি ডাক পড়তো। তিনি কম্পিঊটার সারিয়ে দিয়ে চলে আসতেন। পঞ্চাশ হয়েছিল বয়স। এক প্রতিবেশির সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিলএরকম, কী গো, সান্তাক্লজ কি এবার ভালো কিছু দিচ্ছে তোমাকে? উত্তরে অ্যান্থনি বলেছিলেন, ”এইতো আর কটা দিন, বেশ বিখ্যাত হতে যাচ্ছি।”

অ্যান্থনি কুইন বোমা মেরে নিজেকে উড়িয়ে দিয়েছেন, আশে পাশের চল্লিশটি বাড়িঘর ভেঙেছে সে বোমায়। পুরো নাশভিল উঠে বসেছে সুনসান ভোরবেলায় বিকট বোমার শব্দে। অ্যান্থনি কুইনের নাম যারা জানতো না, তারা জেনেছে।

পত্রিকার প্রথম পাতায় কোনওদিন ছবি ছাপা হতো না বেঁচে থাকলে, তাই তিনি এমন ভাবে মরেছেন যেন ছবি ছাপা হয়।

বিখ্যাত হওয়ার ইচ্ছে সবার । চ্যাপম্যানকে মনে আছে? সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতেন। হাওয়াই থেকে নিউ ইয়র্কে চলে এ্সেছিলেন জন লেননকে খুন করবেন বলে। করেছিলেন খুন। করে গ্রেফতার হওয়ার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন সেখানে। তাঁরও স্বপ্ন ছিল বিখ্যাত হওয়া।

এঁরা আসলে কেউ বিখ্যাত হননি। হয়েছেন কুখ্যাত।

জীবনে কোনও তরঙ্গ নেই। তাই মেরে বা মরে হলেও তরঙ্গ চায় কিছু মানুষ। এই কিছু মানুষের মস্তিস্কেকে কি অসুস্থ বলবো? নাকি সুস্থ মস্তিস্কেও এই ইচ্ছের আনাগোনা চলতে পারে! বিখ্যাত হওয়ার ইচ্ছের! সুস্থ মস্তিস্ক যে সবসময় অন্যের সুখ সুস্থতা চায় তা তো নয়। কেউ যদি বোমা মেরে ধ্বংস করে চারদিক, সে যদি বাদামী হয়, সাধারণত সে জিহাদি। আর যদি সাদা হয় তাহলে তাদের মাথাখারাপ লোক বলে রায় দেওয়া হয়।

মাথাখারাপ লোকেরা কিন্তু খুনী খুব কমই হয়। মাথাভালো লোকেরাই বুঝে শুনে হিসেব করে খুন বেশি করে। ক্রিমিনালদের এক বাক্যে মানসিক রোগী বানিয়ে যদি ফেল, তাহলে কিন্তু মানসিক রোগীদেরও তুমি একবাক্যে ক্রিমিনাল বানিয়ে ফেলছো। এটা কিন্তু ঠিক নয়”।

৩/ লোকে যখন ভারত পাকিস্তান দেখে, আমি মহাবিশ্ব দেখি। লোকে যখন হিন্দু মুসলমান দেখে, আমি মানব প্রজাতি দেখি। বড় কিছু না দেখলে বড় হওয়া যায় না। যত ক্ষুদ্র জিনিস দেখবে, তত ক্ষুদ্র হবে।

যখন মানব প্রজাতিই এই মহাবিশ্বে আদৌ টিকে থাকবে কিনা, থাকলেও কদিন টিকে থাকবে — এই প্রশ্নটি সামনে আসছে, তখন হিন্দু ধর্ম টিকবে কিনা, ইসলাম টিকবে কিনা এ নিয়ে বিস্তর মাথা ঘামাচ্ছে লোকেরা।

এই পৃথিবীই নড়বড় হয়ে উঠেছে বলে আমরা মহাকাশে গ্রহ খুঁজছি পাড়ি দেওয়ার জন্য, প্রজাতির অস্তিত্ব সামান্য হলেও টিকিয়ে রাখার জন্য — সেখানে কোথায় ধর্ম কোথায় জাত! গ্রেকোরোমান আর মিশরীয় ধর্মের মতো ডাকসাইটে ধর্মগুলো কবেই মরে গেছে। এখনকারগুলোও মরবে । কিছুতে ভর দিয়ে চলার অভ্যেস মানুষের। দু পায়ে ভর দিয়ে হাঁটার অভ্যেস না করলে মানুষের পঙ্গুত্ব দূর হবে না।

৪/ “ছবিগুলো আমার তোলা। কোনারক মন্দিরে গিয়েছিলাম, মন্দিরের গা জুড়ে নারী পুরুষের যৌন-সংসর্গের আর্টওয়ার্ক দেখে যতটা বিস্মিত, তারও চেয়ে বেশি মুগ্ধ আমি। দেখতে দেখতে ভাবি, সুস্থ সুন্দর যৌনতা এখন কোথায়!

সেক্সটা পুরোপুরি পুরুষের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেয়েরা প্যাসিভ না হলে তারা নাকি চুপসে যায়। এদিককার অনেক পুরুষই ফোরপ্লে কাকে বলে জানে না, মিশনারি ছাড়া আর কোনও আসনে অভ্যস্ত নয়, রেপকে সেক্স বলে, সেক্সকে অবসিন বলে।

গান্ধিজীই তো বলেছিলেন, সন্তান উৎপাদনের জন্য সেক্স করবে, আনন্দের জন্য নয়, আনন্দের জন্য সেক্স করা পাপ। ভাবা যায়! কেউ কেউ বলে রক্ষণশীলতার আমদানিটা রানি ভিকটোরিয়ার আমলে। যৌনতার মতো শিল্পটাকে প্রাচীনরা গড়েছিল, আধুনিকরা তার সত্যানাশ করলো”।

বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিনের এই বেদনাগুলো ভাবতে বাধ্য করে! পাঠক, অনুরাগী-ভক্তের মনকে দোলা দেয় বারবার। আসলে সমাজ কোথায়, সেটা খুব ভাষায় জানা যায় তসলিমাকে জানলে!

উপরোক্ত লেখাগুলো লেখকের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সংগ্রহ করা।

শেয়ার করুন


Advertisement




Ads Manager

All Rights Resrved & Protected