চট্টগ্রামপ্রধান খবর (বাংলাদেশ)ভ্রমণশিরোনাম

হঠাৎ করে সেন্টমার্টিনে পর্যটকের ঢল; মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি

হঠাৎ করে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে দেশি-বিদেশি পর্যটকের ঢল নেমেছে। আগত পর্যটকদের মাঝে নেই কোনো ধরণের স্বাস্থ্যবিধির লক্ষণ। ৩ দিনের কর্মহীন সময়ের ফাঁকে ছুটি কাটাতে পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটে এসেছেন কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে। রাত্রিকালীন সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে নদী-সাগর পাড়ি দিয়ে হাজারো পর্যটক এখন সেন্টমার্টিনে অবস্থান করছেন। ইতোমধ্যে দ্বীপের শতাধিক আবাসিক হোটেল এবং কটেজসমূহ পর্যটকে ভরে গেছে।

অন্যদিকে পর্যটন নগরী কক্সবাজারেও আসছেন লাখো পর্যটক। টানা ৩ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে এখন পর্যটকে ভরপুর। যেখানে উপেক্ষিত হয়ে গেছে করোনা আতংক। এখানে যেনো শংকায় জীবনের ঝুঁকি ভুলে গেছেন সবাই। তবে সৈকতের লাইফগার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষে নিরাপত্তার পাশাপাশি মাস্ক পরিধান ও সচেতনতার প্রচারণা চালানো হলেও তা কার্যত মানছেন না পর্যটকরা।

এদিকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনার নতুন সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সম্ভাব্যতা নিয়েও সঙ্কিত সরকার। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে সেখানে কেউই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। এমনকি এসব দেখারও যেনো কেউ নাই। মনে হয় যেন যেমন খুশি, তেমন সাজো সেখানকার নিয়মনীতি। কোনো কিছুতেই মানছেন না স্বাস্থবিধি। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে এই সময়টায় বেশ পরিপূর্ণ থাকে। বিশেষ করে সমুদ্র সৈকতগুলো পর্যটকদের কোলাহলে মুখরিত থাকে। তবে করোনা ভাইরাসের মহামারির কারণে এবার চিত্রটা ভিন্ন হওয়ার কথা ছিল।

হোটেল মালিকরা জানান, লকডাউন পরবর্তী সময়ে ছুটির সুযোগে মুজিববর্ষ উদযাপন করতে আগে থেকেই ৯০ ভাগ পর্যটক সেন্টমার্টিনের হোটেল এবং কটেজে বুকিং দিয়েছেন। এমনকি হোটেল-কটেজ পরিপূর্ণ হলে হাজারো পর্যটক সৈকতের বালিয়াড়িতে রাত কাটাবেন বলে জানা গেছে। অনেকেই আবার সেন্টমার্টিনে রুম না পেয়ে ঘর ভাড়া করে নিয়েছেন।

ঢাকা মিরপুর থেকে ভ্রমণে আসা পর্যটক জাহিদ হেসাইন জানান, সেন্টমার্টিন দ্বীপে এসে রাতযাপন করার শখ ছিল দীর্ঘ দিনের। এ আনন্দ উপভোগ করতে পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রবাল দ্বীপে ছুটে এসেছি।

সেন্টমার্টিন হোটেল কটেজ মালিক সমিতি ও দ্বীপ আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান জানান, ডিসেম্বর মাস পর্যটকের ভরা মৌসুম। বিজয় দিবস উদযাপন করতে পর্যটকেরা প্রতিবছর এ সময়ে সেন্টমার্টিনে আসেন। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দ্বীপের হোটেল-কটেজ মালিক সমিতি সব সময়ই পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে বদ্ধপরিকর।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মৌলভী নুর আহমদ জানান, বিজয় দিবসের ছুটিতে ৭ হাজারেরও বেশি পর্যটক দ্বীপে এসেছেন। অনেক পর্যটক হোটেল-কটেজে জায়গা না পেয়ে ইতিমধ্যে তাঁবু, পেন্ডেল ভাড়া নিয়েছেন। তারা নিকটজনদের নিয়ে সৈকতের বালিয়াডিতে রাত কাটাবেন। সন্ধ্যার পর থেকে থেকে পেন্ডেল নির্মাণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে লকডাউন পরবর্তী পর্যটন মৌসুম এবং সরকারি ছুটিকে স্মৃতিময় করতে এসব পর্যটক ২৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার পর্যন্ত প্রবাল দ্বীপে অবস্থান করবেন। এদিকে পর্যটকদের সেবায় পুলিশ, কোষ্টর্গাড, বিজিবি সার্বিক নিরাপত্তায় কাজ করছে।

এ নিয়ে সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মুস্তাকিম হোসাইন জানান, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে পুলিশ কাজ করছে। পর্যটকরা যেনো অবাধে চলতে পারেন সেই জন্য ৩ স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পর্যটকদের স্বার্থে বীচে মোটর সাইকেল চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এদিকে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সাইফ জানান, আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ স্বাস্থ্য বিধি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

করোনায় সচেতনতার অংশ হিসেবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মাস্ক পরা বাধ্যতাম‚লক করা হলেও তা মানা হচ্ছে না পর্যটনকেন্দ্রে। কেউ মানছেন না সামাজিক দূরত্বও। এক কথায় কক্সবাজারের কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানার দৃশ্য দেখা যায়নি। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য মানুষ সেন্টমার্টিনসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ভিড় করছেন। এসব জায়গায় পর্যটকদের জন্য গড়ে ওঠা হোটেল-মোটেলগুলোতেও নেই স্বাস্থ্যবিধির কোন নিয়ম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা ভাইরাস প্রথম ধাপেই বড়সড় আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়ে গেছে। এরই মধ্যে দ্বিতীয় ধাপেও বহু মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। দ্বিতীয় জোয়ারের মাঝেই কক্সবাজারসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলো যে হারে জনসমাগম হচ্ছে তাতে ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।

শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই কক্সবাজারের কলাতলী সমুদ্র সৈকতে কয়েক লাখ পর্যটকে মুখরিত ছিলো। সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসা এসব পর্যটকের অনেকের মুখেই মাস্ক ছিলো না। কারও কারও মাস্ক থাকলেও তা মুখের বদলে গলার দিকে নামানো।

এতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে অনেকাংশে। ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সংশ্লিষ্টদের সচেতনতামূলক নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে কেউ মানছেন না। কক্সবাজারে প্রতিদিন আসছে হাজার হাজার পর্যটক। আগত পর্যটকরা সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি সেন্টমার্টিন, দরিয়ানগর, হিমছড়ি ঝর্ণা, ইনানীর পাথুরে সৈকত, রামু বৌদ্ধ বিহার, মহেশখালী আদিনাথ মন্দিরসহ জেলার পর্যটন স্পটগুলোতেও দেদারছে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

এমনকি এসব দেখারও যেনো কেউ নাই। মনে হয় যেন যেমন খুশি, তেমন সাজো সেখানকার নিয়মনীতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
%d bloggers like this: