বরিশালভ্রমণশীর্ষ খবর

পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত মনপুরা দক্ষিনা হওয়া সি-বিচ

সাগরের উত্তাল ঢেউ, সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত, অতিথি পাখির সমারহ, হরিণ ও প্রাকৃতিক অপরুপ সৌন্দর্য একসাথে সব দৃশ্য দেখা যাচ্ছে ভোলার মনপুরা উপজেলার দক্ষিনা হওয়া সি-বিচে। মাত্র ৬ মাসের মধ্যে ভোলাসহ সারাদেশের ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এ সি-বিচটি। আর দিন দিনই বাড়ছে এখানে পর্যটনদের সংখ্যা। প্রতিদিনি পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে মনপুরা দক্ষিনা হওয়া সি-বিচ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোলার মনপুরা উপজেলার সক্ষিন সাকুচিয়া ইউনিয়নের দক্ষিনে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠে দক্ষিনা হওয়া বি-বিচ। এরপর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অলিউল্লাহ কাজলের নজরে আসে এর সৌন্দর্য। তার উদ্যোগে ২০২০ সালের ৩১ জুলাই দক্ষিনা হওয়া সি-বিচের সৌন্দয্যের কাজ শুরু হয়। মনপুরা উপজেলার দক্ষিনে সাগরের মোহনায় ও দক্ষিনা বাতাসের কারণে এর নাম করণ করা হয় দক্ষিনা হওয়া সি-সিচ নামে।

এখানে রয়েছে বিচ, সাগরের ঢেউ, প্রাকৃতিক বনায়নের সবুজ সমারহ, অতিথি পাখি, হরিণ, সূর্যোদয়- সূর্যাস্তের দৃশ্য। এছাড়াও পর্যটকদের বসার বেঞ্চ, দোলনা ও মোটরসাইকেল ও স্পীবোর্ডে ঘুড়ার সুযোগ। দৃষ্টি নন্দন এ সৌন্দয্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই সারাদেশ থেকে শত-শত পর্যটক আসছেন। কেউ আসে সৌন্দয্য উপভোগ করতে, কেউ আসে ঘুরতে, কেউ আসে পিকনিক করতে, কেউ আসেন এক সাথে বনায়ন, সাগরের ঢেউ, অতিথি পাখি, হরিণ সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করতে। আর এখানে আসা সকল পর্যটনকরাই সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন।

ভোলা থেকে আসা পর্যটক মোঃ সিয়াম বলেন, আমি অনেকের মুখে দক্ষিণা হাওয়া সি-বিচের নাম শুনেছি। আজ প্রথম আসলাম। অনেক ভালো লাগল। এক দিকে সবুজের সমারোহ অন্য দিকে নদী সব মিলিয়ে অপরুপ সুন্দর।

চরফ্যশন থেকে আসা পর্যটক নুসরাত বলেন, আমি আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখানে পিকনিক করতে আসলাম। অনেক সুন্দর দেখার মত একটি জায়গা।

লক্ষীপুর থেকে আসা পর্যটক রুবেল শান্তা দম্পতি বলেন, এখানকার সৌন্দর্যে আমরা মুগ্ধ হয়েছি। সময় সুযোগ হলে এখানেই রিফ্রেশের জন্য আসবো।

দক্ষিণা হাওয়া সি-বিচের সেচ্ছাসেবী রুবেল বলেন, আমরা ১০/১২ জনে একটি টিম সেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছি। এই বিচে ভ্রমণের উদ্দেশ্য যেই পর্যটক আসে তাদের রাতে থাকার সুরক্ষা দেওয়ার জন্য গার্ড মোতায়েন করেছি। আমরা মূলত এখানে যে পর্যটক আসে তাদের দেখভাল করাটাই আমাদের কাজ।

দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও দক্ষিণা হাওয়া সি-বিচের উদ্যোক্তা অলিউল্লাহ কাজল বলেন, অল্পদিনে বেশ পরিচিতি লাভ করা এই বিচটি আরও দৃষ্টিনন্দন ও সৌন্দর্য করার জন্য পর্যটন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে সহযোগিতা পেলে এটি বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটক স্থানে পরিণত হবে।

ভোলার মনপুরা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেলিনা আক্তার চৌধুরী বলেন, দক্ষিণা হাওয়া সি-বিচকে টুরিজমের জন্য প্রস্তুত করতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করছি। মুলত টুরিজমের আওতায় আনতে হলে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা পর্যটন বোর্ডের অধিনে আমরা আবেদন পাঠিয়েছি। আমরা আশাবাদী অতিদ্রুত মনপুরার দক্ষিণা হাওয়া সি বিচ পর্যটন মন্ত্রণালয়ে সহযোগীতা পেলে এটি বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটকস্থান পরিনিত হবে।

ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন, দক্ষিণা হাওয়া সি-বিচে পর্যটকদের জন্য রেস্ট হাউস নির্মাণ, নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। আশাকরি খুব দ্রুত বিচটি আরও উন্নত করতে পারব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
%d bloggers like this: