চট্টগ্রামপ্রধান খবর (বাংলাদেশ)বিশেষ প্রতিবেদনভ্রমণশিরোনাম

কক্সবাজারে ২১শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে হোটেল মোটেলে ঠাঁই নেই

করোনার ভীতি হ্রাস পাওয়া ও ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে তিন দিনের ছুটি থাকায় কক্সবাজার ভ্রমণে সব ধরণের টিকেট অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। ৪ শতাধিক হোটেল মোটেল ছাড়াও বিমান ও বাসের কোনো ধরণের টিকেট নেই। টিকেট নেই সেন্টামার্টিন ভ্রমণে নিয়োজিত জাহাজগুলোও। এ আশানুরূপ পর্যটক আগমনে পর্যটক ব্যবসায়ীরা খুশি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে শহরের ৪ শতাধিক আবাসিক হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউজ ও রিসোর্ট। করোনার ভীতি হ্রাস পাওয়ায় মৌসুমের শেষ দিকে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে প্রায় ১০ লাখ পর্যটক আগমন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ পর্যটকদের বরণের জন্য আইন-শৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি।

শুধু কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত নয়। পাথুরে বিচ ইনানী, হিমছড়ি, দরিয়ানগর, মহেশখালীর আদিনাথ, প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন ও ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে দেশী-বিদেশি পর্যটক আগমনে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

এ দিকে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ২দিন ধরে চলবে আলোকসজ্জা ও রাস্তার ২ পাশে লাইটিংয়ের কাজ। পর্যটকদের নিরাপত্তায় পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। পাশপাশি সমুদ্র সৈকত এলাকায় কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশও।
২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এ উপলক্ষে ১৯ ফেব্রুয়ারি হতে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ৩ দিন সরকারি ছুটি রয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের দিকে দল বেঁধে এগিয়ে আসছে পর্যটকের দল।

এই টানা ৩দিন কক্সবাজারের হোটেল মোটেলে রুম পাওয়া দুস্কর হয়ে পড়েছে। একইভাবে কক্সবাজার ভ্রমণের বিমান টিকেট, বাসের টিকেট ও সেন্টমার্টিন ভ্রমণেও নেই জাহাজের টিকেট। এ সব পরিবহনখাতে আগত পর্যটকদের চাহিদার সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বিশেষ করে কক্সবাজার-কলাতলী পর্যটন জোনে অবস্থানরত হোটেলের প্রতি রুম ভাড়া সর্বনিম্ম ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা হাকিয়েছে। অন্যদিকে হোটেল জোনে প্রতি রুম ভাড়া ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা করে চাওয়া হচ্ছে। এতে ২১ ফেব্রুয়ারির ছুটিতে পর্যটকদের কাছ থেকে গলাকাটা ভাড়া আদায়সহ নানা হয়রানি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন সচেতন মহল।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানান, শহরের চার শতাধিক আবাসিক হোটেল বুকিং হয়ে গেছে। রুম না পেয়ে ফেরত যাচ্ছে অনেকেই। আশানুরূপ পর্যটক আগমনে আমরা খুশি।

কক্সবাজারের হোটেল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মুকিম খান জানান, ২১ ফেব্রুয়ারি মহান মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আগামী রবিবার ছুটি। আর শুক্র ও শনিবার ২ দিন সাপ্তাহিক ছুটি। টানা তিন দিনের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নামতে পারে সৈকত নগরীর কিনারাসহ অন্যান্য পর্যটন স্পটগুলোতে। পর্যটকদের বরণ করতে ইতোমধ্যে হোটেল মোটেল জোনের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম কিবরিয়া খান বলেন, ১৯, ২০, ও ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোনো আবাসিক হোটেলে রুম খালি নেই। এক সপ্তাহ আগে থেকেই রুম পাননি অনেকে। কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের সেবায় আমরা নিয়োজিত আছি। স্থানীয় প্রশাসনও পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে।

কক্সবাজারের তারকামানের হোটেল লং বীচের অপারেশন অফিসার মোহাম্মদ তারেক বলেন, শুক্র, শনি ও রবিবারে হোটেলের কোনো কক্ষ খালি নেই। এক মাস আগেই বুকিং হয়ে গেছে। তবু প্রতিদিন অনেকে কক্ষ বরাদ্দ নিতে ফোন করেন পর্যটকরা।

কক্সবাজার ট্যুরিষ্ট পুলিশের এসপি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান জানান, পর্যটকদের সেবা দিতে ট্যুরিষ্ট পুলিশ সার্বক্ষনিক কাজ করছে। ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে কক্সবাজারের বাহির থেকে অতিরিক্ত টিম আনা হয়েছে। তাদেরকে বিভিন্ন পর্যটন স্থানে কয়েকটি গ্রুপ করে দেয়া হয়েছে। তারা পর্যটকদের সেবায় কাজ করছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ জানান, হোটেল ব্যবসায়ীদের পর্যটকদের সেবার মান বাড়ানোসহ সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আশা করছি অতীতের ন্যায় তারা সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
%d bloggers like this: