চট্টগ্রামপ্রধান খবর (বাংলাদেশ)ভ্রমণশিরোনাম

কক্সবাজারে পর্যটকের উচ্ছ্বাসের কাছে পরাজিত করোনা!

ব্যস্ত শহর কক্সবাজারে সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের সাথে মানুষের ঢল, সবাই উচ্ছ্বাস আর উল্লাসে প্রাণের সঞ্চার খুঁজতে ব্যস্ত। কক্সবাজার এসে সমুদ্রের সুরে তাল মিলিয়ে ভুলে গেছে করোনা আতংক। শহরের অলিগলিসহ বিভিন্ন পয়েন্টে মানুষ আর মানুষ। উচ্ছ্বাসের কাছে যেনো পরাজিত করোনা। হোটেলে ঠাঁই না পেয়ে অনেকে র্দুভোগে পড়েছেন। শুক্রবার সকাল থেকে জেলার পর্যটন স্পটগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু হোটেল মোটেলে পর্যটক হয়রানিসহ রের্কড সংখ্যক গলাকাটা বাণিজ্যে এ নেমেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। শীত মৌসুমে পর্যটকরা থাকার স্থান না পেয়ে রাতে পথে পথে ঘুরেছে। এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করেছেন। তবে এসবের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্টদের কাছে।

মোহাম্মদ হোসাইন মাসুম তার ফেসবুকে লিখেছেন, কক্সবাজারে হোটেলে রুম ভাড়া অতিরিক্ত নেয়া হচ্ছে। কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই প্রশাসনের, চরম দুর্ভোগে পর্যটকরা।

এমডি শাহনেওয়াজ লিখেছেন, এই সমস্যা চাইলে সহজেই সমাধান করা সম্ভব হতো। আমাদের সকল স্কুল কলেজগুলো বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। আর সেই স্কুল কলেজ গুলোতে অন্তত রাত্রিকালীন সেবাটা দেয়া যেত। এই পর্যটকের মাধ্যমে কক্সবাজারের অসংখ্য পরিবার তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। আর সেই পর্যটকেরা রাতে শীতের মৌসুমের শিশুদের নিয়ে রাস্তায় রাত কাটাচ্ছে। এটি সত্যি খুবই দুঃখজনক এবং অমানবিক। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর ও শুভ বুদ্ধির আহবান করছি।

জুবাইরুল গণি লিখেছেন, কক্সবাজারে হোটেলে রুম না পেয়ে শতশত পর্যটক রাস্তায় ঘুরছে, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন হলরুম কনফারেন্স রুমগুলো পর্যটকদের আপাতত রাতকাটাবার ব্যবস্থা করে দেয়া হোক।

দেলোয়ার হোসাইন ইমন লিখেছেন, ১ হাজার টাকার রুম ভাড়া দিচ্ছে ৫ হাজার টাকা করে! এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়রের জরুরি পদক্ষেপ নেয়া উচিত এবং এদের নিরাপত্তা দেয়ার আবেদন জানাচ্ছি।

এদিকে টানা ৩ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে সমুদ্র নগরী কক্সবাজারে এখন পর্যটকে ভরপুর। যেখানে উপেক্ষিত হয়ে গেছে করোনা আতংক। এখানে যেনো শংকায় জীবনের ঝুঁকি ভুলে গেছেন সবাই। তবে সৈকতের লাইফগার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষে নিরাপত্তার পাশাপাশি মাস্ক পরিধান ও সচেতনতার প্রচারণা চালানো হলেও তা কার্যত মানছেন না পর্যটকরা।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে ২১ ফেব্রুয়ারিসহ টানা ৩ দিনের ছুটিতে এসব পর্যটকরা ভ্রমণে এসেছেন। যার পরিমাণ ৪ লাখের বেশি হবে। ক্রমাগত আরও পর্যটক বাড়তে পারেন। আগত পর্যটকের একটি বিশাল অংশ প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণে গেছে। টেকনাফ থেকে চলাচলকারি ৭ টি জাহাজে অনন্ত ১০ হাজার পর্যটক ভ্রমনে যাওয়া তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মহান একুশে ফেব্রুয়ারিসহ শুক্রবার থেকে টানা ৩ দিনের ছুটির কবলে পড়েছে দেশ। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে খানিকটা প্রশান্তির সন্ধানে কক্সবাজারে এসেছে পর্যটকের ঢল। শুক্রবার সকাল থেকে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে পর্যটকের ভীড় বাড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পর্যটকে ভরপুর হয়ে উঠেছে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট। এসব পর্যটকরা সৈকতে গোসলসহ ঘুরা-ঘুরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কক্সবাজার ভ্রমণ যেনো তাদের কাছে অন্য এক আনন্দের। যদিও করোনা জন্য মাস্ক পরিধানসহ শাররিক দ‚রত্ব মেনে চলার শর্ত ছিলো। যার কিছুই মানছেন না পর্যটকরা।

ঢাকা সেগুন বাগিচা থেকে আসা পর্যটক আসিফুল হায়দার জানান, তারা ৮ বন্ধু মিলে ছুটিকে উপভোগ করতে এসেছেন। কক্সবাজার এসে তারা দারুণ আনন্দিত। অন্যান্য বারের তুলনায় এবার পর্যটকের সংখ্যাও বেশি। তবে এর জন্য তাদের উপভোগ কম হচ্ছে না।

স্বামী-সন্তান নিয়ে আসা সাদিয়া জানান, কক্সবাজার এসে সমুদ্রের সুরে তিনি ভুলে গেছে করোনা আতংক। এখানে মানুষ আর মানুষ। উচ্ছ্বাসের কাছে যেনো পরাজিত করোনা।

ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক শাকের আহমদ জানান, এসব পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদানে ট্যুরিস্ট পুলিশের ১২টি ইউনিট কাজ করছে। মাস্ক পরিধানসহ শাররিক দ‚রত্ব মানতে প্রচারণার পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে অভিযোগ কেন্দ্র চালু, প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। শুক্রবার কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে কয়েকটা বাচ্চা হারিয়ে গেলে পুলিশের পক্ষে সন্ধান করে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
%d bloggers like this: