ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাদশার ত্রাস রাজ্য ও রাজত্ব

ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাদশার ত্রাস রাজ্য ও রাজত্ব
ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাদশার ত্রাস রাজ্য ও রাজত্ব

ফুটপাতে চাঁদাবাজি-ছিনতাই-ভাড়াটে সন্ত্রাসী-মাদক ব্যবসা সব  অপকর্মের  রাজা সোলাইমান বাদশা। নগরীর দুই নম্বর গেট থেকে অক্সিজেন মোড় অপরাধ রাজত্ব। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র নাছিম উদ্দিন সোহেল হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি বাদশা।

২০১৮ সালে দুই নম্বর গেটে এএসআই মালেককে গুলি করেছিলো বাদশার কিশোর গ্যাং সদস্যরা। অভিযোগ ছিল ওই ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি ছিল তার। পরবর্তীতে এএসআই মালেক হত্যাপ্রচেষ্টা মামলায় তার অনুসারী খোকন  চৌধুরীসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হলেও রহস্যজনক কারণে বাদশাকে তদন্ত প্রতিবেদন থেকে বাদ দেয়া হয়। অভিযোগ আছে সরকার দলীয় একজন কাউন্সিলরের ইশারায় বাদশার অপকর্মের রাজত্ব চলে।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা প্রকল্পে কর্মরত দুই শ্রমিককে গত ১৬ এপ্রিল তুলে নিয়ে চাঁদা দাবি করলে তাকে গ্রেপ্তার করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। উদ্ধার হওয়া শ্রমিক মিজান ইসলাম ও  গোলাম রাব্বানি আদালতে এ ব্যাপারে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছেন।

জবানবন্দিতে তারা বলেছেন, চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল তারা শিক্ষা বোর্ডের সামনে রাস্তার উপর ড্রেনের কাজ করছিলেন। ওই সময় ঠিকাদার বেলালের সাথে স্থানীয় কিছু লোকের তর্কাতর্কি হয়। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে ১৫/২০ জন লোক এসে তাদের ইট পাটকেল ছুড়ে মারে। এক পর্যায়ে তাদেরকে (শ্রমিক গোলাম রাব্বানি ও মিজানুল ইসলাম) তুলে নিয়ে যায়। পরে চাঁদা দেয়ার কথা বলে  ঠিকাদার বেলাল ও  প্রকল্পের প্রকৌশলী দুই নম্বর গেটে আসেন। সেখানে রবিন নামে একজন চাঁদার টাকা আনতে গিয়েছিলেন। রবিনকে তারা ধরে ফেললে মাগরিবের পরে জলাবদ্ধতা প্রকল্প দেখভালকারি সেনাবাহিনীর সদস্য, ঠিকাদার বেলাল ও প্রকৌশলী মিলে দুই শ্রমিককে উদ্ধার করেন।

উল্লেখ্য বাদশা পাঁচলাইশ থানার ষোলশহর দুই নম্বর গেট গ্রিনভ্যালি আবাসিক এলাকার আবু তাহেরের ছেলে।

পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (ওসি) আবুল কাশেম ভুঁইয়া জানান, দুই নম্বর গেট থেকে অক্সিজেন এলাকা পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসাবে কাজ করছিলো বাদশা। কিশোরদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে দলে ভিড়িয়ে চাঁদাবাজি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধে ব্যবহার করতো। তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা রয়েছে।

বাদশার সৈন্যরা : নানা অপরাধের হোতা সোলাইমান বাদশা নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে দুই নম্বর গেট কেন্দ্রিক গড়ে তুলেছে নিজস্ব বাহিনী। তার অনুসারীদের মধ্যে অন্যতম হলো, তুলাতলির মো. হেলাল (২৭), আল ফালাহ গলির মেহেদী হাসান রবিন (২৪), মসজিদ গলির মো. জাহেদ (২৭), কসমোপলিটনের তানজিল (২০), আলফালাহগলির মিঠু (২৩), মোহাম্মদ আসিফ (২৪), ষোলশহরের খোকন চৌধুরী ওরফে ল্যাংড়া খোকন (২৯), তুলাতলির মামুন (২৭), আল-ফালাহ গলির নাছির (২৭), খুলশী সিগন্যালের গোড়ার রাজু (২২), চান্দগাঁও খাজারোডের ওমর ফারুক (২৫), মেয়র গলির আবদুল হাকিম অভি (২২), তুলাতলির ইসমাইল ওরফে পপ ইসমাইল, ষোলশহর দুই নম্বর গেটের ইরফান উদ্দিন (১৮) কসমোপলিটনের ফজলে রাব্বি সুজন (৩০), দ্ধুসঢ়;ই নম্বর গেট বেবী সুপার মার্কেট এলাকার শেখ শাহীন (৩৩), দুই নম্বর রেল সিগন্যাল এলাকার তৈয়বুর রহমান রুবেল (৩৩), কসমোপলিটনের রাসেল প্রকাশ মাইকেল রাসেল (৩২),  ষোলশহরের মোরশেদ (৩৩), অনিক (৩৩), শফিউল আজম মন্টি (৩১), জাবেদ (৩২), কসমোপলিটনের রাহুল দাশ (৩০), আইমান জাহিদ (২২), মাহি (১৮), প্রত্যয় (১৭), রাকিব (১৭), রাব্বি (১৮), রায়হান (১৯) ও সবুজ (২০)।

বাদশার ত্রাস রাজত্ব এলাকা : অনুসন্ধানে জানা যায়, দুই নম্বর গেট থেকে অক্সিজেন পর্যন্ত অবৈধ টেম্পো লাইন থেকে চাঁদাবাজি। নগরীর ফিনলে স্কয়ার, চিটাগং শপিং কমপ্লেক্স বিপ্লব উদ্যান হয়ে ২ নম্বর গেট কর্ণফুলী কাঁচাবাজার পর্যন্ত প্রায় দুইশ ভাসমান ভ্যানগাড়ি বসিয়ে অনুসারীদের দিয়ে  প্রতিদিন চাঁদা উঠায় সোলাইমান বাদশা।

অভিযোগ রয়েছে, আল-ফালাহ গলিতে ইরাজ প্রপার্টিজ ডেভেলপার বিল্ডিয়ের নিচতলা জোর পূর্বক দখল করে রেখেছে। দুই নম্বর  গেটের পুরো এলাকাটিতে কিশোর গ্যাংয়ের অন্যতম হোতা এই টোকাই  বাদশা।

 

রাহাত মামুন
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা