পানির-দেশে বাস করেও পানির কষ্টে-ভরা ওদের জীবন পানির-দেশে বাস করেও পানির কষ্টে-ভরা ওদের জীবন

মঙ্গলবার, ২২ Jun ২০২১, ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন







পানির-দেশে বাস করেও পানির কষ্টে-ভরা ওদের জীবন

পানির-দেশে বাস করেও পানির কষ্টে-ভরা ওদের জীবন

পানির-দেশে বাস করেও পানির কষ্টে-ভরা ওদের জীবন
পানির-দেশে বাস করেও পানির কষ্টে-ভরা ওদের জীবন

ঝালকাঠি শহরের ১ নং ওয়ার্ড কলেজমোড় ও বাসন্ডা ব্রিজের মধ্যবর্তী একটি পরিত্যক্ত স্থানে প্রায় নয়/দশ বছর ধরে বেদে সম্প্রদায়ের ১৪টি পরিবারের বসবাস। ১৪টি পরিবারে লোকসংখ্যা রয়েছে শতাধিক। খুপড়ি ঘরেই তাদের সবার বসবাস। এদের অধিকাংশের ঘরেই খাবার নেই,পানি নেই।

বুধবার(১০ জুন) পড়ন্ত বিকেলে কথা হয় বেদেদের সঙ্গে। তারা জানান, দুঃখ ও কষ্ট গাঁথা জীবনের কাহিনী। সাদামাটা জীবনযাপন তাদের। জীবনের সাথে যুদ্ধ করে প্রতিটি দিন তারা কাটায়।

একটু সুখের জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা কঠোর পরিশ্রম করে। এরা রহস্যময় মানুষ। যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়ায় এখানে-ওখানে।তারা রাস্তার পাশে, ফাঁকা মাঠে বা পরিত্যক্ত জমি, খাসজমি, রাস্তার ধার, স্কুলের মাঠের পাশে অথবা নদীর তীরে অতিথি পাখির মতো অস্থায়ী আবাস গড়ে। আবার একদিন উধাও হয়ে যায়, কেউ খবর রাখে না তাদের।

তারা আরও জানালেন, তারা দিনে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ায়। তাদের আর্থিক অবস্থা উন্নয়নের জন্য পেশা পরিবর্তনের সুযোগ করে দিতে পারলে এই জীবন থেকে মুক্তি পেতে পারে বেদে স¤প্রদায়। তাবিজ-কবজ বিক্রি, জাদুটোনা আর সাপ খেলা দেখিয়ে জীবন সংগ্রামে টিকে থাকতে হয়।

বেদেদের জীবন অধিকারবিহীন। তাদের মৌসুমী শীত, ঝড়, তুফান, গরম বুকে ধারণ করা যে কত কষ্টকর তারাই একমাত্র বুঝতে পারে। বেদেদের বাড়ি-ঘর, মাথার ওপর ছাদ, সামাজিক মর্যাদা জন্ম থেকে আজও তারা বিরত।

এখানকার বেদে সর্দারনি তাছলিমা আক্তার বলেন, রাস্তা-ঘাট ও গ্রাম-গঞ্জে ঘুরে আমাদের উপার্জন করতে হয়। কিন্তু মহামারি করোনায় লকডাউনের কারণে এখন আমরা বাইরে বের হতে না পারায় উপার্জনও বন্ধ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন এখনকার প্রশাসন এবং স্থানীয়দের সহায়তায় একবেলা খেয়ে একবেলা না খেয়ে কোন রকমের বেচে আছি। তবে আমাদের সমস্যা হচ্ছে এখানে কোন পানির ব‍্যবস্থা নেই। প্রায় মাইলখানেক দ‚র থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। পানির অভাবে গোসল বা সংসারের কোন কাজই করতে পারতেছিনা । হয়তো একদিন ভাত না খেয়ে থাকা যায় কিন্তু পানি ছাড়াতো বাঁচা সম্ভব নয়।

বেদে সরদার তহিদুল ইসলাম বলেন, গত বছর ২৫,মার্চ থেকে আমরা কেউ বাইরে যেতে পারি না। এমনকি রাস্তায়ও উঠি না। দেশে লকডাউন রয়েছে যার কারণে আমাদের আয়-রোজগার বন্ধ। স্থানীয় কাউন্সিলর রেজাউল করীম জাকির ও জেলা প্রশাসন থেকে কিছু চাল-ডাল দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরিবার প্রতি পাঁচ কিলো করে পাওয়া সেই চাল ফুরিয়ে গেছে। তাছাড়াও এই মুহ‚র্তে আমাদের ভাতের চেয়ে পানির সংকট বেশি।

কাঠফাটা রোদ আর তীব্র ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে আমাদের জীবন। দুপুর বেলায় কাঠফাটা রোদের তাপে একটু পানির অভাবে প্রাণটা দেহ থেকে বের হয়ে যাওয়ার অবস্থা। পানির অভাবে আমাদের বেচে থাকাই কস্টকর। বেদে পরিবারে জন্ম নেয়াই যেন আমাদের অভিশাপ।

তিনি আরও বলেন পানি এবং খাদ‍্যরে অভাবে ১৪টি পরিবারের মধ্যে ৮টি পরিবারই অন‍্যত্র চলে গেছেন বর্তমানে মাএ ছয়টি পরিবারের বসবাস। ছয়টি পরিবারে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন লোকের বসবাস।

এ অবস্থায় বেদে পরিবারের সবাইর প্রানে বেচে থাকার একটাই দাবি,ভাত নয়, কাপড় নয়, প্রানে বেচে থাকার জন্য একটু পানি চাই। সরকার ও বিত্তবানদের প্রতি আকুতি, বিলাসিতা নয়, জীবন ধারণের জন্য খাবার নয়, একটু পানির ব‍্যবস্থা করার জন্য মানবিক সাহায্যের আবেদন জানান।

আতাউর রহমান,ঝালকাঠি প্রতিনিধি

শেয়ার করুন




All Rights Resrved & Protected