নামের মিল থাকায় সাজাপ্রাপ্ত আসামির সাজা ভোগ করছেন অন্য নারী

নামের মিল থাকায় সাজাপ্রাপ্ত আসামির সাজা ভোগ করছেন অন্য নারী
নামের মিল থাকায় সাজাপ্রাপ্ত আসামির সাজা ভোগ করছেন অন্য নারী

নামের মিল থাকায় চট্টগ্রাম কারাগারে হাসিনা আক্তার নামে এক সাজাপ্রাপ্ত আসামির সাজা ভোগ করছেন হাসিনা বেগম নামে আরেক নারী। পাঁচ মাস আগে বিষয়টি চট্টগ্রাম মহানগর অতিরিক্ত ৫ম আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ। আদালত বিষয়টি কক্সবাজারের টেকনাফ মডেল থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার আদেশ দেন।

কিন্তু একের পর এক ধার্য তারিখ পেরিয়ে গেলে পুলিশ প্রতিবেদনটি দিতে দেরি করছিল। একপর্যায়ে আদালত চলতি বছরের ২২ মার্চ তারিখে ৮ এপ্রিলের মধ্যেই প্রতিবেদন দিতে পুলিশকে আদেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে টেকনাফ থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) খোরশেদ আলম বিষয়টি তদন্ত করে ৬ এপ্রিল আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।

প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, হাসিনা বেগম ও হাসিনা আক্তারের নাম-ঠিকানা একই পাওয়া যায়। তবে পূর্বে গ্রেফতার হওয়া হাসিনা আক্তারের দুই সন্তান ছিল এবং বর্তমানে কারাগারে থাকা হাসিনা বেগম তিন সন্তানের জননী। তাদের বয়স ও ছবির মধ্যে পার্থক্য এবং উভয়ের স্বামীর পিতা-মাতার নামে কোনো মিল নেই।

পুলিশ প্রতিবেদনসহ সর্বশেষ রোববার (২ মে) বিষয়টি অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক শরীফুল আলম ভূঁঞার ভার্চুয়াল আদালতে শুনানি হয়।

শুনানি শেষে আদালত চট্টগ্রাম কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারকে কারাগারের ছবিযুক্ত নথিপত্র দেখে আরেকটি প্রতিবেদন দেয়ার আদেশ দিয়েছেন। সেই প্রতিবেদনসহ আগামী ৫ মে এ বিষয়ে আদালতে আবার শুনানি বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসিনা বেগমের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, হাসিনা বেগম বর্তমানে কারাগারে বেশ অসুস্থ। তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। আমি আশা করছি আদালত হাসিনা বেগমকে মুক্তি দিয়ে প্রকৃত আসামিকে সাজা ভোগের আদেশ দেবেন।

এদিকে আদলত সূত্রে জানা গেছে, দুই সন্তানসহ হাসিনা আক্তার নামে এক নারী ২০১৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম নগরের কর্ণফুলী থানার মাদক মামলায় কারাগারে যান। একই বছর ২৭ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন পান তিনি।

এরপর ২০১৯ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম অতিরিক্ত মহানগর পঞ্চম আদালতের বিচারক জান্নাতুল ফেরদাউস চৌধুরী ওই মামলায় হাসিনা আক্তারকে ৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। এছাড়া জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

রায় ঘোষণার পর ২০১৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে টেকনাফ থানা পুলিশ হাসিনা বেগমকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করেন। সেই থেকে তিন সন্তানের জননী হাসিনা বেগম কারাভোগ করছেন।

রাহাত মামুন
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা