বিশেষ প্রতিবেদন

ইউপি সদস্যের স্ত্রীর নামে ভিজিডি ও ৪০ দিনের কর্মসূচির সুবিধা ভোগের অভিযোগ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য বাদশা মিয়ার বিরুদ্ধে নিজ স্ত্রীর নামে ভিজিডি কার্ডের(২০১৯-২০)  অর্থ বছরের চাল ও টাকা উত্তোলন সহ ২০১৮ সাল থেকে অদ্যবদি ৪০ দিনের কর্মসূচির সুবিধা ভোগ করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েজন বাসিন্দা এ বিষয়ে জেলা, উপজেলা সহ দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের নগরাজপুর গ্রামের ইউপি সদস্য বাদশা মিয়ার রয়েছে রাজকীয় বাড়ি। তিনি এলাকার একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি ও ইউপি সদস্য হওয়া সত্ত্বেও নিজের স্ত্রীর নামে ভোগ করছেন সরকারি সহায়তা। অসহায় ও দুস্থ্য মহিলাদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিডি কার্ডে নিজ স্ত্রী বিউটি বেগমের নাম অন্তর্ভূক্ত করেন। যাহার  সিরিয়াল নম্বর ৪৫৯। এছাড়াও ২০১৮ সাল থেকে অদ্যবদি ৪০ দিনের কর্মসূচিতেও নিজ স্ত্রীর নাম অন্তর্ভুক্ত করে সুবিধা ভোগ করছেন তারা। যার সিরিয়াল নম্বর ৩০০।

অভিযোগকারী ওবায়দুল হক সরকার, ছাবেদ আলী, মাজহারুল ইসলাম, আতাউর রহমান সহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন বলেন, এলাকায় অনেক দরিদ্র অসহায় ব্যক্তি থাকলেও তাদেরকে ভিজিডি’র তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করে মেম্বার নিজের স্ত্রীর নামে ভিজিডি কার্ড করেছেন। এছাড়াও ৪০ দিনের কর্মসূচিতেও নিজের স্ত্রীর নাম অন্তর্ভুক্ত করে সুবিধা ভোগ করছেন। অথচ  মেম্বারের স্ত্রীকে কখনও মাটি কাটা কিংবা কোনো প্রকার কর্মসূচীতেও দেখা যায়নি। এভাবে তারা নিজেদের নাম দিয়ে গরিবের হক মেরে দিচ্ছে। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে উপযুক্ত বিচার দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয় সুশীল সমাজের ব্যক্তি বাবুল সরকার বলেন, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে এধরনের হীন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে সেজন্য বিষয়টি তদন্ত করে ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

ইউপি সদস্য বাদশা মিয়ার স্ত্রী বিউটি বেগমের কাছে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে গেলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ইউপি সদস্য বাদশা মিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন,  যারা অভিযোগ করেছেন তাদের কাছে গিয়ে শোনেন। আমি কিছু বলতে পারবো না।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ কুমার গুপ্ত বলেন, বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানাবো ‌।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সোহেলী পারভীন জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Back to top button
%d bloggers like this: