বিশেষ প্রতিবেদন

অবৈধ দখলদারের কবলে মৃত্যুর প্রহর গুণছে কপোতাক্ষ নদ

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত স্রোতাসিনী কপোতাক্ষ নদ এখন জঞ্জালের ভাগাড়ে পরিণত। অতীতে এই নদের আর্শীবাদপুষ্ট হয়ে যশোর,সাতক্ষীরা,খুলনা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল লোকালয়, হাট-বাজার, স্কুল-কলেজসহ নানাবিধ প্রতিষ্ঠান।

“হ্যানে মাছ ধরি হাটে বেচি সুংসার চালাইচি,ছ্যান করচি,ছেলিপিলি সাঁতার কাটিচে,বাত নান্না করচি,সুংসারে অভাব বলি কিচু টের পাইনি।একন আর মাচ পাইনে,নদী নেই শুকায় গেচে চারিদিকে আইল দে সব ঘের বানায়ি তো,ছ্যান করতি পারিনে ময়লা ফেলি পানি কালো হয়িগে,পানি বিরাট গন্দ,এতে লাবলি গাই চুলকুনি হয়।”

কথা হচ্ছিল দাশ পাড়ার যতিনের  সাথে।কপোতাক্ষ নদ নিয়ে এমনি অভিব্যক্তি তার।

অতীত ইতিহাস বলে এই নদেই একসময় দিনে দুইবার জোয়ার-ভাটা হতো,স্টিমার চলতো,মাছ শিকার করে জীবীকা নির্বাহ করত হাজার হাজার মানুষ।যাতায়াতের একমাত্র ব্যবস্থাও ছিল এই নদ। কথিত আছে জল এতটাই স্বচ্ছ ছিল যে নদের ভিতর কিছু হারিয়ে গেলে উপর থেকে স্পষ্ট দেখা যেত! এসব এখন কেবলই রুপকথার গল্পের মতো।

মৃত্যুর প্রহর গুণছে কপোতাক্ষ নদ
মৃত্যুর প্রহর গুণছে কপোতাক্ষ নদ

যৌবনে টইটম্বুর নদ এখন ক্ষমতাসীনদের দখলে । শীত মৌসুমে নদের পানি শুকায়ে গেলে শুরু হয় ক্ষমতাসীনদের নদে বাধ দেওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা। নদের দুপাশে বাধ দিয়ে ঘের তৈরি করে মাছ চাষ করে।কেউবা ধান রোপণ করে কেউ কেউ আবার নদকে নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি ভেবে বাড়ি-ঘরসহ দোকানপাট নির্মাণ করে।

কলকারখানার ময়লা আবর্জনা, বাজারের ময়লা,পরিত্যক্ত ওষুধের প্যাকেট এমনকি অনেকে টয়লেটের ময়লাসহ নানাবিধ আবর্জনা পানিতে ফেলানোর ফলে নদ আজ মৃতপ্রায়।যার ফলস্বরূপ বর্ষা মৌসুমে নদের দুই পাড়ের পানি প্রবাহিত হতে না পেরে আশেপাশের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়।জনজীবনে নেমে আসে চরম অসহায়ত্ব।

অথচ এই নদের উপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছিল জনপদ লোকালয়। মাঝে মাঝে রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রশাসনের বুলি শুনা যায় নদ খননের।রাজনৈতিক নেতাদের হয় ক্ষমতার পালাবদল প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হয় রদবদল  কিন্তু নদ আর খনন হয় না।

মৃত্যুর প্রহর গুণছে কপোতাক্ষ নদ
মৃত্যুর প্রহর গুণছে কপোতাক্ষ নদ

অবশ্য কছু কিছু ক্ষেত্রে খনন করেও বটে।যার বেশিরভাগই খাতা কলমে।অনেকটা কাজির গরু খাতা কলমে পাওয়া যায় গোয়ালে থাকে শুন্যতা।

ঐতিহাসিক এই নদকে রক্ষা করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।নদ খননের পাশাপাশি অবৈধভাবে দখলদারদের দখলকৃত স্থাপনা গুলো উচ্ছেদ করে নিয়মিত তদারকি করতে হবে।যথাযথ কর্মসূচি নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।নদ বাঁচাতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।এখনই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অচিরেই কপোতাক্ষ শুধু বইয়ের পাতায় থাকবে বাস্তবে এটার দেখা পাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে ক্ষমতাসীন দখলদারদের বেড়াজালে।

লেখকঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন
শিক্ষার্থী, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়

Back to top button
%d bloggers like this: