বিজ্ঞান-প্রযুক্তিশিরোনাম

বিশ্বে উদ্ভাবনী জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে বাংলাদেশ: পলক

অচিরেই বাংলাদেশ বিশ্বে উদ্ভাবনী জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে মন্তব্য করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, ইতোমধ্যেই এটুআইয়ের ইনোভেশন ল্যাবে নেবুলাইজার, অ্যাম্বুলেন্স, রেফ্রিজারেটরের নতুন নতুন মডেলসহ বেশ কিছু বাণিজ্যিক সম্ভাবনাময় পণ্য বাজারে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ অডিটোরিয়ামে ‘মেক হেয়ার, সেল এভরিহোয়ার’ স্লোগানে   ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২১’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনলাইনে উপস্থিত থেকে বিশেষ অতিথি হিসেবে দেয়া বক্তব্যে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।

এবারের আসরটি যৌথভাবে আয়োজন করছে আইসিটি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)।

দেশের উদ্ভাবন শিল্পের প্রশংসা করে পলক বলেন, আগামী দিনে বাংলাদেশে হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যার খাতে একটি ইনোভেশন ইকো-সিস্টেম গড়ে তুলতে এই ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো সেতুবন্ধন রচনা করবে।

পলক বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রি উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অনুশাসন জারি করেছিলেন। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে ৯৪টি খুচরা যন্ত্রাংশের ওপর আমদানী শুল্ক কমিয়ে ১ শতাংশ করা ফলে এখন দেশে তৈরি মোবাইল-টিভি-ফ্রিজের স্থানীয় চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে। দেশের চাহিদার ৭০ শতাংশ মোবাইল ফোন তৈরি হচ্ছে দেশেই।

সরকার ইতোমধ্যেই আইটি ও আইটিইএস থেকে বিলিয়ন ডলার রফতারনি আয় করছে। ২০২৫ সাল নাগাদ দেশের হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যার খাত থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় করবে সরকার বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এই সম্মেলনে অংশীজনদের সঙ্গে মত বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ডিজিটাল ডিভাইস ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি বিষয়ে দেশের তরুণদের সংশ্লিষ্ট করতে এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে নেতৃত্ব দিতে সরকার দেশের ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করছে। হার্ডওয়্যার শিল্পের বিকাশের জন্য আমরা মাইক্রো প্রসেসর ডিজাইনিং স্ট্রাটেজি প্রণয়ন করেছি। রোবটিকস, এআই, ইন্টারনেট অব থিংকস এবং ব্লক চেইন স্ট্রাটেজি প্রণয়ন করা হয়েছে। এগুলো প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীসভায় অনুমোদন করেছেন। এছাড়াও হাই-টেক শিল্পকে আরো প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউএলএসআই ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপোর প্লাটিনাম স্পন্সর ইভ্যালি, গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে আসুস, ইপসন, স্যামসাং, ফেয়ার ইলেক্ট্রোনিক্স ও ওয়ালটন। সিলিভার স্পন্সর হিসেবে রয়েছে হালিমা গ্রুপ, লিও, ওরিক্স বায়োটেক, সনির‌্যাগস, সিডনি সান এবং টিপি লিংক।

এছাড়াও ইভেন্টের পার্টনার বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, আইসিটি অধিদফতর, কন্ট্রোলার অব সার্টিফাইং অথোরিটি, বেসিস, বাক্কো, ই-ক্যাব, আইএসপিএবি, বিআইজেএফ, টিএমজিবি। গেমিং পার্টনার গিগাবাইট।

আয়োজকরা জানান, এবারের মেলায় ২০০ জনের বেশি প্রদর্শক অংশ নেবেন। থাকছে ৪০টি নতুন উদ্ভাবন ও ১০টি টেক সেমিনার। এরমধ্যে ৪টি ওয়ার্কশপ এবং ৩টি এফডিজি সেশন থাকছে। মেলার শেষ দিন একযুগের সেরা ১২ জন উদ্ভাবককে সম্মাননা দেয়া হবে।

হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনেআরা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং বিসিএস এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Back to top button
%d bloggers like this: