বিদেশি শিল্পী দিয়ে বিজ্ঞাপন তৈরী করলে ফি দিতে হবে সরকারকে বিদেশি শিল্পী দিয়ে বিজ্ঞাপন তৈরী করলে ফি দিতে হবে সরকারকে

মঙ্গলবার, ২২ Jun ২০২১, ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন







বিদেশি শিল্পী দিয়ে বিজ্ঞাপন তৈরী করলে ফি দিতে হবে সরকারকে

বিদেশি শিল্পী দিয়ে বিজ্ঞাপন তৈরী করলে ফি দিতে হবে সরকারকে

সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ
সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ

মাসুদ রানা: দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গন যখন বেহাল দশায় দেশীয় চলচ্চিত্র যখন হুমকির মুখে, দেশীয় অনেক গুণী শিল্পী থাকা শর্তেও দেশী শিল্পীদের বাদ দিয়ে অনেক নির্মাতা নিজেদের বিজ্ঞাপন চিত্রসহ অনেক নাটক চলচ্চিত্রে ভিনদেশীদের কাজের সুযোগ করিয়ে দিচ্ছেন। ঠিক তখনি দেশীয় শিল্পীদের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অতি আস্থাভাজন তথ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ সংশোধিত দেশীয় চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপনে বিদেশি অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী, সংগীতজ্ঞ ও সংগীতশিল্পী অংশগ্রহণ বিষয়ে সম্প্রতি নীতিমালা জারি করে তথ্য মন্ত্রণালয়।

বিদেশি শিল্পী নিয়ে বিজ্ঞাপন চিত্র নির্মাণে শিল্পীপ্রতি ২ লাখ টাকা সরকারি ফি পরিশোধের নিয়ম রেখে এ সংক্রান্ত নীতিমালা সংশোধন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ। আর নীতিমালা সংস্কার করায় তথ্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন দেশের শিল্পী সমাজের প্রতিনিধিরা।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তথ্যমন্ত্রীর হাছান মাহমুদ-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের এ অনুভূতি ব্যক্ত করে এবং এসময় উপস্থিত শিল্পীরা মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান। এসময় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম,নির্মাতা এবং গীতিকার এস এ হক অলীক, অভিনেত্রী তারিন জাহান।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের লক্ষ্য শিল্পীদের সুরক্ষা দেওয়া,এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমাদের টেলিভিশনে বিজ্ঞাপনের একটা বিরাট অংশ অন্য দেশের শিল্পীদের দিয়ে বানানো হয় এবং সেই শিল্পীরাও প্রথম শ্রেণির নয়, অন্য দেশের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় গ্রেডের শিল্পী।

পক্ষান্তরে, আমাদের মডেল শিল্পীরা দেখতেও সুন্দর, স্মার্ট এবং ভালো অভিনয় করেন। বিজ্ঞাপনচিত্রেও অভিনয় করতে হয়।বেশকিছু বিজ্ঞাপনচিত্রে আমাদের শিল্পীরা এত সুন্দর অভিনয় করেছে, বিষয়কে এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছে এবং এমনভাবে সেগুলো বানানো হয়েছে যা দেখে অভিভূত হতে হয়, মনে গভীরে দাগ কাটে। আমরা মনে করি, আমাদের দেশের শিল্পীদের বিদেশে গিয়ে বিজ্ঞাপনচিত্র বানানোর মতো মেধা আছে।

ড. হাছান মাহমুদ আরও বলেন, বিদেশি শিল্পী বা বিদেশ থেকে চলচ্চিত্র বা বিজ্ঞাপন বানিয়ে আনা বন্ধ করা সরকারের উদ্দেশ্য নয়, এখন মুক্তবাজার অর্থনীতি, যে কেউ যে কাউকে দিয়ে বানাতে পারে, সরকারের লক্ষ্য দেশের শিল্পীদের সুরক্ষা দেওয়া। বিদেশি শিল্পী দিয়ে চিত্রনির্মাণে আমরা প্রথমে ৫ লাখ টাকা ফি’র কথা চিন্তা করেছিলাম, পরে অনেক শিল্পীর পারিশ্রমিক ৫ লাখ টাকা হয় না, সেই বিবেচনায় আপাতত শিল্পীপ্রতি ভ্যাট এবং আয়কর বাদে ২ লাখ টাকা ফি নির্ধারণ হয়েছে। আর যে টেলিভিশন সেই শিল্পীর বিজ্ঞাপনচিত্র দেখাবে সেই টেলিভিশন সরকারকে এককালীন ২০ হাজার টাকা দিতে হবে। এছাড়া ১৯৯৯ সাল থেকে চালু এ সম্পর্কিত নীতিমালায় অন্য কোনো পরিবর্তন নেই।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা শিল্পীদের কল্যাণে অনেক কিছু করেছেন। চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট করে দিয়েছেন। সেটি এখন সংসদীয় কমিটিতে আছে। কমিটির সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে, খুব তারাতারি সেটি সংসদের অনুমোদন লাভ করবে।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি সরকারের শিল্পরক্ষার উদ্যোগের সঙ্গে একাত্ম রয়েছে। আর বিদেশি শিল্পীর জন্য ফি নির্ধারণকে দেশের শিল্পীদের বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় ভাবনার ফসল বলে বর্ণনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান।

অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, দেশের শিল্প-সংস্কৃতি ও শিল্পী রক্ষায় এ নীতিমালা সংস্কারকে তথ্যমন্ত্রীর একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন।

নির্মাতা এস এ হক অলীক বলেন, এ নীতিমালা সংস্কারের পাশাপাশি টিআরপি নির্ধারণ, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, বিদেশি সিরিয়াল প্রিভিউ করার বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন উদ্যোগগুলো আক্ষরিকভাবেই যুগপোযোগী।

অভিনেত্রী তারিন জাহান জানান, বিদেশি চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপনে বাংলাদেশের শিল্পীদের কাজের ক্ষেত্র প্রসারের বিষয়ে নজর দেবার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানান।

এসময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও চলচ্চিত্র) খাদিজা বেগম, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, অভিনেত্রী ও মডেল তানভীন সুইটি, মিষ্টি জান্নাত, মিষ্টি মারিয়া, সিমলা, বিপাশা কবির, অন্তু করিম প্রমুখ সভায় অংশ নেন।

উল্লেখ্য, সিনেমা হল নির্মাণ ও বন্ধ সিনেমা হল চালু করতে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে দাবি ছিল না এটা অভূতপূর্ব কাজ হয়েছে বলে জানান।

শেয়ার করুন




All Rights Resrved & Protected