ইসলামধর্মপ্রধান খবর (বাংলাদেশ)

তারাবীহ নামাজ ও ইতিকাফে বিধিনিষেধের প্রতিবাদে সৌদি দূতাবাসে প্রতিবাদলিপি

সম্প্রতি সৌদি আরবে পবিত্র রমজান মাসে তারাবীহর নামাজ ২০ রাকাত থেকে কমিয়ে ১০ রাকাতের ঘোষণা দেয়ার এবং ইতিকাফ নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তি সৌদি দূতাবাসে মেমোরেন্ডাম অপ প্রটেস্ট (প্রতিবাদলিপি) জমা দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (০৬ এপ্রিল) সকালে তারা প্রতিবাদলিপি জমা দেন।

দৈনিক আল ইহসান ও মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকাদ্বয়ের সম্পাদক আল্লামা মুহাম্মদ মাহবুব আলম, আল- মুতমাইন্নাহ মা ও শিশু হাসপাতালের এম.ডি এবিএম রুহুল হাসান, জি.এম ডাঃ মুহাম্মদ আবদুল আলী, সাসনিউজ২৪ডটকম এর সম্পাদক সাইয়্যিদ মুক্তাদুল হোসেন, দৈনিক বিশ্ববার্তা২৪ডটকম এর সম্পাদক মুহম্মদ আরিফুর রহমান রাজারবাগ শরীফ উনার পক্ষে এ প্রতিবাদ লিপিটি প্রেরণ করেন।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়- আমরা, বাংলাদেশের নাগরিকগণ, নিম্নলিখিত ঘটনা ও কারণগুলির কারণে এই প্রতিবাদলিপি জমা দিয়েছি- করোনার অজুহাত ও গুজব ছড়িয়ে মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববী শরীফ কর্তৃপক্ষ এবার পবিত্র রমযানে তারাবীহর নামাজ ১০ রাকাতে সীমাবদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। যা সম্পূর্ণ দ্বীন ইসলাম বিরোধী একটি কর্মকান্ড।

কারণ সম্মানিত কাবা শরীফে তারাবীহর নামাজ ২০ রাকাতকেই সহীহ বলা হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি সরকার পবিত্র রমজান মাসে ইতিকাফের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ফযীলতপূর্ণ ইবাদতেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারিতামূলক এবং দ্বীন ইসলাম উনার হুকুম আহকামে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর দ্বীনি অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে সৌদি সরকার। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অনতিবিলম্বে সৌদি সরকারকে এই ঘৃণ্য দ্বীন ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ড প্রত্যাহারের আহবান জানাচ্ছি।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, একটি ধ্বংসাত্মক বিশ্বাস এই, করোনা ভাইরাস সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে এবং মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়বে। হাদীসে এটি পরিষ্কারভাবে বর্ণিত আছে যে, কোন রোগই ছোঁয়াচে নয়। ছোঁয়াচে রোগের অস্তিত্বের উপর বিশ্বাসের ভিত্তিতে গৃহীত যেকোন পদক্ষেপ সরাসরি ইসলামী বিধি-বিধানের পরিপন্থী এবং কোন মুসলমান তা সমর্থন করতে পারে না।

আমরা, বাংলাদেশের মুসলমানরা, এই প্রতিবাদ স্মারকলিপিটি পাওয়ার সাথে সাথে বর্তমান রমজান পরিকল্পনা প্রত্যাহার করার জন্য আপনাকে আহ্বান জানাচ্ছি। আপনি যদি তথাকথিত ‘রমাদ্বান পরিকল্পনা’ থেকে পিছপা না হন এবং অবিলম্বে পবিত্র রমাদ্বান মাস সম্মানিত শরীয়ত মোতাবেক পালনে বাধা প্রদান করেন তাহলে দুটি পবিত্র মসজিদের রক্ষক হিসাবে আপনার খ্যাতি ব্যাপকভাবে ক্ষুন্ন হবে। উপরোক্ত সুপারিশ অনুসারে যদি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নেয়া হয় তাহলে বিশ্বের মুসলমানরা পবিত্র দুটি মসজিদের সুরক্ষার কথা ভাবতে বাধ্য হবে।

Back to top button
%d bloggers like this: