আইন আদালতক্রিকেটখেলাধুলাশিরোনাম

তামিমার ‘পাসপোর্ট’ নাকি ‘তালাক নোটিশ’, কোনটা সত্য?

সাবেক স্বামী রাকিব হাসানকে যথাযথভাবে ২০১৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর ডিভোর্স দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ক্রিকেটার নাসির হোসেনের স্ত্রী তামিমা সুলতানা। তাই রাকিবকে ডিভোর্স না দিয়ে নাসিরকে বিয়ে করার অভিযোগ সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।

বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বনানীতে সংবাদ সম্মেলনে তামিমা এ সংক্রান্ত তালাক নোটিশের কপি সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ করেন।

এদিকে, সংবাদ সম্মেলনের কিছুক্ষণ পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় তামিমার পাসপাের্টের ছবি। সেটি ২০১৮ সালের ৪ মার্চ ইস্যু করা। তাতে দেখা যায় তামিমার স্বামী হিসেবে রাকিব হাসানের নাম। এ নিয়ে নেটিজেনরা বিভিন্ন প্রশ্ন তুলছেন। এরই মধ্যে তথ্যের এই পাসপোর্ট ও তালাক নোটিশের স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেও দেখা যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের হাতে একটি কাগজ দিয়েছেন তামিমা তাম্মী, এসময় ক্রিকেটার নাসির ও তাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার আসিফ বিন আনওয়ারও উপস্থিত ছিলেন। যে কাগজের শিরোনাম ছিলো ‘স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে তালাকে নোটিশ’।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর তামিমা সুলতানা তাম্মী তার স্বামী রাকিব হাসানকে তালাক প্রদানের নোটিশ দিয়েছেন। তবে রাকিব এটি পুরোপুরি অস্বীকার করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে, আদালতে ক্রিকেটার নাসির ও তামিমা সুলতানার বিরুদ্ধে মামলার ডকেটে একটি নথী সংযুক্ত করেছেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। যেটিতে তামিমার স্বামীর নাম উল্লেখ রয়েছে ‘রাকিব হাসান’। একই সঙ্গে ইমার্জেন্সি কন্ট্রাকেও স্বামী রাকিব হাসানের নাম উল্লেখ রয়েছে।

পাসপোর্টটি প্রদান করার তারিখ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে- ৪ মার্চ ২০১৮ সাল। যেটির মেয়াদোত্তীর্ণ ৩ মার্চ ২০২৩ সালের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

পাসপোর্টের ধরণ বলছে, এটি রি-ইস্যু করা। পাসপোর্টটির বর্তমান নম্বর বিআর দিয়ে শুরু হয়ে ৫৩ ডিজিট উল্লেখ করে শেষ হয়েছে। অন্যদিকে তার পুরাতন পাসপোর্টটি বিএ দিয়ে শুরু হয়ে ১১ ডিজিট উল্লেখ করে শেষ হয়েছে।

রাকিব হাসানের আইনজীবী ইশারত হাসান এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে বলেন, তামিমা সুলতানা আমার মক্কেল রাকিবের স্ত্রী হয়েও তাকে তালাক না দিয়ে ক্রিকেটার নাসিরকে বিয়ে করেছেন। যা আইনসিদ্ধ নয়। এখানে রাকিব হাসান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে এবং তার মানহানি হয়েছে। এ সংক্রান্তে পাসপোর্টের কপিসহ অন্যান্য নথী আমরা মামলার ডকেটে সংযুক্ত করেছি। ইতোমধ্যে মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলাটি তদন্ত করে আগামি ৩০ মার্চ প্রদিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, তামিমা ও নাসিরের আইনজীবী ব্যরিস্টার আসিফ বিন আনওয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, যে পাসপোর্টের কথা বলা হচ্ছে, সেটি আমি দেখিনি। ওই পাসপোর্টটি সঠিক কিনা তা’ও আমি জানি না। আমাকে জানতে হবে, পাসপোর্টটা ঠিক আছে কিনা। রাকিবের আইনজীবী পাসপোর্টের কপি মামলার ডকেটে সংযুক্ত করলে এটা ওনার ব্যাপার। এই পাসপোর্টে দেখার পর আমি এই বিষয়ে স্পষ্টভাবে মন্তব্য করতে পারবো। এই বিষয়ে আমার ক্লাইন্টকে ইন্সট্রাকশন দিতে হবে, তার কাছ থেকে এ বিষয়ে জানতে হবে। এটি যদি উনি (রাবিকের আইনজীবী) আদালতে দাখিল করে থাকেন তাহলে, আদালতে আমার মক্কেলের পক্ষ থেকে যে বক্তব্য পেশ করা দরকার, আমরা তা নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে প্রদান করবো।

বিষয়টি নিয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পাসপোর্ট, ভিসা ও ইমিগ্রেশন) সেলিনা বানু গণমাধ্যমকে বলেন, পাসপোর্টে স্বামীর নামের স্থান যার নাম উল্লেখ রয়েছে, ডকুমেন্ট বলছে ওই ব্যক্তিই পাসপোর্টধারী নারীর স্বামী। ডিভোর্স হয়ে থাকলে তাকে বৈবাহিক অবস্থা হালনাগাদ করে তালাকপ্রাপ্ত উল্লেখ করা দরকার ছিলো। তবে এটি যদি রি-ইস্যু করা পাসপোর্ট হয়ে থাকে। তাহলে হতেও পারে ভুলে এটি কারেকশন করা হয়নি।

জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও রাকিবের বিয়ে হয়। তাদের ৮ বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। তামিমা পেশায় সৌদিয়া এয়ার লাইন্সের কেবিন ক্রু। চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্র-পত্রিকায় তিনি ঘটনার বিষয়ে জানেন। মামলায় আরও বলা হয়, তামিমা ও নাসিরের এমন অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তার শিশু কন্যা মানসিক বিপর্যস্ত। আসামিদের এমন কার্যকলাপে রাকিবের চরমভাবে মানহানি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button