চীন মোকাবিলায় পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান বাইডেনের
English

চীন মোকাবিলায় পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান বাইডেনের

চীন মোকাবিলায় পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান বাইডেনের

অর্থনীতি ও সামরিক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

গত কয়েক বছর ধরেই বিশ্ব অর্থনীতি ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রে আগ্রাসী গতিতে এগিয়ে চলছে চীন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চীনকে মোকাবিলা করতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবকাঠামোয় বেইজিংয়ের বিনিয়োগকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নতুন জোট গঠন করার জন্য আহ্বান করেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

শনিবার (১২ জুন) যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে চলমান জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন জো বাইডেন এ আহ্বান জানান।

জানা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা জিনজিয়াং প্রদেশে জোরপূর্বক শ্রম এবং অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে চীনকে অভিযুক্ত করেছে।

নাম প্রকাশে ‍অনিচ্ছুক মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, চীনে জোর করে শ্রম দিতে বাধ্য করার বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা গ্রহণে যুক্তরাষ্ট্র জি৭ ভুক্ত বাকি দেশগুলোকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে।

শনিবার সামিটের অন্যতম ইস্যু বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান চীনের প্রভাব মোকাবিলায় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বেইজিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্প, যার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবকাঠামোয় বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে পারে চীন। এর বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোকে অবশ্যই কাউন্টার করতে হবে।

২০১৩ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি তার লাখো কোটি ডলারের অবকাঠামো প্রকল্প বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) ঘোষণা করেন। এটি একটি উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ উদ্যোগ যেটা এশিয়া থেকে শুরু করে ইউরোপ ছাড়িয়ে আরো বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। বিআরআই প্রকল্পের আওতায় চীন নানা দেশের রেলপথ, বন্দর, মহাসড়ক এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজে সহায়তা করবে। বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশ চীনের এই সহায়তা প্রকল্পে সই করেছে।

এদিকে চীনের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক দিনকে দিন জটিল হচ্ছে। সম্প্রতি চীনের ৫৯টি সংস্থার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে জো বাইডেনের প্রশাসন। যার মধ্যে কমিউনিকেশন জায়ান্ট হুয়াওয়েও আছে। তবে এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে চীন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩১টি চীনা সংস্থার বিরুদ্ধে আগেই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছিল, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আলোচনার সাপেক্ষেই ওই সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি জো বাইডেন প্রশাসন সেই তালিকা নিয়েই ফের আলোচনায় বসেছিল।

সেখানে একদিকে বেশ কয়েকটি সংস্থার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে, আবার নতুন করে কয়েকটি সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সব মিলিয়ে ৫৯টি সংস্থার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মূলত চীনা সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন অনেক চীনা প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নাগরিকদের বিনিয়োগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হচ্ছে। ২ আগস্ট থেকে নতুন এ নির্বাহী আদেশ কার্যকর হবে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যে সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, তারা সবাই কোনো না কোনোভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। বিশেষত, উইঘুর মুসলিমদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছে। ওই সংস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্রে কোনো রকম ব্যবসা করতে পারবে না।

ট্রাম্প আমলে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনা থেকে শুরু করে উইঘুর মুসলিমদের সঙ্গে চীনের ব্যবহার এবং একাধিক বিষয় নিয়ে চীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। অনেকেই মনে করেছিলেন, জো বাইডেন ক্ষমতায় এসে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক খানিকটা উন্নত করবেন। কিন্তু বাস্তবে বাইডেন প্রশাসন সে পথে হাঁটছে না। চীনের ৫৯টি সংস্থার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি সে কথাই স্পষ্ট করল।

চীন জানিয়েছে, সম্পূর্ণ ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আমেরিকা ওই সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। এর ফলে চীনকেও কঠিন পদক্ষেপের কথা ভাবতে হবে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন ইঙ্গিত দিয়েছেন, নতুন করে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারেন তারা। তিনি বলেন, ‘চীনের প্রতিষ্ঠানের অধিকার আদায়, বৈধ স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে ও আইন অনুযায়ী তাদের সহায়তার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে চীন।’

সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স

শেয়ার করুন


Advertisement




Ads Manager

All Rights Resrved & Protected