অর্থ-বাণিজ্যপ্রধান খবর (বাংলাদেশ)

লকডাউনেও লাভজনক হয়ে উঠছে পুঁজিবাজার

বছর না ঘুরতেই ব্যবসা খাতে আবারও আঘাত হানতে চাইছে নভেল করোনাভাইরাস। এরই মধ্যে গত ৫ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের প্রথম লকডাউন কার্যকর করেছে সরকার। যদিও লকডাউন আতঙ্কে এর আগের দিন (৪ এপ্রিল) বিশাল পতন ঘটে পুঁজিবাজারে। কিন্তু লকডাউনেও লাভজনক হয়ে উঠছে পুঁজিবাজার, উর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে সূচক। ইতোমধ্যে গেল দুই কার্যদিবসে ১৯২ পয়েন্ট যোগ হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্সে। পাশাপাশি টাকার অংকে লেনদেনেও এসেছে গতি।

এ বিষয়ে পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংকগুলোর সুদের হার এখন নিম্নমুখী। বিনিয়োগের বিপরীতে রিটার্নের হার কম। শুধুমাত্র শেয়ারবাজার থেকেই ২ অংকের রিটার্ন পাওয়া সম্ভব। গত বছরের শেষার্ধে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বৈশ্বিক রিটার্নের তালিকায় শীর্ষে ছিল। অবশ্য চলতি বছরের প্রথম থেকেই এর সূচকে নিম্নমুখিতা দেখা গেছে। তবে বিনিয়োগ বাড়তে থাকলে সামনের দিনগুলোতে দেশের পুঁজিবাজার ইতিবাচক থাকবে।

এদিকে বাজার পর্যালোচনা করে জানা যায়, মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতেই ঊর্ধ্বমুখী ছিল সূচক। উত্থানে সবচেয়ে সক্রিয় ছিল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, গ্রামীণফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি, বেক্সিমকো লিমিটেড ও রেনাটা লিমিটেড। দিনশেষে ডিএসইএক্স ১০৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৮১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা তার আগের দিন ছিল ৫ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে।

এদিন ২ ঘন্টায় মোট ৫০৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২৩৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৪৬টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ২৪০টির, কমেছে ১৫টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৯১টি সিকিউরিটিজের বাজারদর।

খাতভিত্তিক লেনদেনের রেখাচিত্রে দেখা যায়, মঙ্গলবার ডিএসইর মোট লেনদেনের ৩১ দশমিক ২ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে সাধারণ বীমা খাত। ১০ দশমিক ৭ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয়তে আছে ব্যাংক খাত। তৃতীয়তে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে রয়েছে বিবিধ খাত এবং ৯ দশমিক ৩ শতাংশ লেনদেন নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে ছিল টেলিযোগাযোগ খাত।

এদিন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক দিনের ব্যবধানে ১৭৯  পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ২০৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের কার্যদিবসে সূচকটির অবস্থান ছিল ৯ হাজার ২৯ পয়েন্টে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ১৮৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৬টির, কমেছে ১২টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৩০টির বাজারদর। এদিন সিএসইতে মোট ১৫০ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১৬ কোটি টাকা।

Back to top button
%d bloggers like this: