প্রতারকের নামের জটলা খুলতে কাস্টমসের লেগেছে ৪ বছর প্রতারকের নামের জটলা খুলতে কাস্টমসের লেগেছে ৪ বছর

সোমবার, ২১ Jun ২০২১, ০৬:১৪ অপরাহ্ন







প্রতারকের নামের জটলা খুলতে কাস্টমসের লেগেছে ৪ বছর

প্রতারকের নামের জটলা খুলতে কাস্টমসের লেগেছে ৪ বছর

কাস্টম গোয়েন্দা
কাস্টম গোয়েন্দা

আবদুল হামিদ: বয়সের ভারে নুয়ে পড়া হেনান আনহুই এগ্রো এলসি এবং এগ্রো বিডি এন্ড জেপি নামীয় দুটি আমদানি রফতানি কারক ভূয়া প্রতিষ্ঠানের মালিক সুরুজ মিয়া ওরফে বিল্লাল হোসেন খান কাস্টম গোয়েন্দাদের পাতা ফাঁদে গতকাল বিকালে রাজধানীর বনশ্রী থেকে ফেঁসে গেছে। এই প্র্রতিষ্ঠানের মালিক বিল্লাল হোসেন খান হলেও ভূয়া এনআইডি কার্ড আর ট্রেড লাইন্সেসে তার নাম সুরুজ মিয়া। এই নামের জটলা খুলতে কাস্টমসের লেগেছে ৪ বছর।

সুরুজ মিয়া ওরফে বিল্লাল হোসেন খান বিপাকে পড়ে ২০১৭ সালের ৫ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে ১২টি মিথ্যা ঘোষণায় পোল্ট্রি ফিডের ক্যাপিটাল মেশিনারি ঘোষণায় পণ্য খালাসের অপচেষ্টার মধ্য দিয়ে। এই সময় কাস্টম গোয়েন্দা অধিদপ্তর এই কন্টেনার গুলো আটক করে। কিন্তু সুরুজ মিয়াকে আটক করতে কাস্টম অধিদপ্তারের লেগে গেছে ৪ বছর। তারপরেও বাঁচতে পারল না হতভাগা প্রতারক সুরুজ মিয়া।

মঙ্গলবার (০৮ জুন) রাত ৮ টায় রাজধানীর আইডিইবি ভবনে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের হেডকোয়ার্টাসের সম্মেলন কক্ষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের ডিজি ড.মোহাম্মদ আবদুর রউফ এসব তথ্য জানান।

তিনি জানিয়েছেন, ভূয়া এনআইডি কার্ড দিয়ে ট্রেড লাইসেন্স করে দুটি আমদানি-রপ্তানি কারক প্রতিষ্ঠান মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চায়না থেকে পণ্য আমদানি রপ্তানি করে আসছিল এই সুরুজ মিয়া। এই আটককৃত সুরুজ মিয়ার দুটি প্রতিষ্ঠানসহ মোট চারটি প্রতিষ্ঠান এ পর্যন্ত ১৫৩৯ কোটি টাকা পাচার করেছে বলে তথ্য আছে কাস্টমার দপ্তরের হাতে। চারটি ভূয়া প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময় অবৈধ সিগারেট, মদ ও ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানি করে আসছিল।

ডিজি ড.মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, আমিও হতভাগ এখন কি করে সম্ভাব এনআইডি কার্ড জালিয়াতি করা। এই সুরুজ মিয়াকে আটক করতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে আমাদের। আর এত সময় লাগার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল। বিভিন্ন দফতার থেকে সহযোগিতায় গড়িমসি করা। আর সুরুজ মিয়ার এনআইডি কার্ড, ট্রেড লাইন্সেস সব ভূয়া থাকায় এসব কাগজপত্র মেনেজ করে সেটা জাচাই বাচাই করতেই এই সময় গেছে আমাদের। তারপরেও অপরাধীকে আটক করতে পারা বড় সফলতা।

আটককৃত ১২টি কন্টেইনার খুলে রীতিমতো হতবাক কাস্টমস দপ্তরের কর্মকর্তারা কাগজ-কলমে মেশিনারিজ থাকার কথা থাকলেও তার মধ্যে ছিল অবৈধ সিগারেট, মদ ও এলইডি টেলিভিশন ফটোকপিয়ার মেশিন। অনুসন্ধানে জানা যায়, এই ১২টি কন্টেইনার আটকের আগে এই ভূয়া প্রতিষ্ঠান দুটি ইতিপূর্বে আরও ৭৮টি কন্টেইনার মেশিনারিজ পণ্য নামে খালাস করে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় ৮৭৪ কোটি টাকা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচারের অভিযোগে পল্টন থানায় ১৫টি মানি লন্ডারিং মামলা দায়ের করে কাস্টমস।

এঘটনায় হেনান আনহুই এগ্রো এলসি এবং এগ্রো বিডি এন্ড জেপি নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৫২৫ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং অভিযোগ এনে পল্টন থানায় ১৪টি মামলা দায়ের করে কাস্টমস অধিদপ্তর। আর এই মামলার আসামি আমদানি রফতানি কারক ভূয়া প্রতিষ্ঠানের মালিক সুরুজ মিয়া ওরফে বিল্লাল হোসেন খান।

চায়না কোম্পানি জামরাজ ইন্ডাস্ট্রি নিকট থেকে আমদানির তথ্য অনুসন্ধানে হেব্রা ব্র্যাঙ্কো, শেখরটেক খিলগাও ঢাকা প্রতিষ্ঠান ৭টি বিলে ৩১ কন্টেইনার মেশিনারিজ পণ্য আমদানি করেছে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হেব্রা ব্র্যাঙ্কোর অস্তিত্ব কখনোই ছিল না। এটি কখনোই উৎপাদন কার্যক্রম করেনি। এতে হেনান আনহুই এগ্রো এলসি এবং এগ্রো বিডি এন্ড জেপি প্রতিষ্ঠান আমদানিকৃত পণ্য আমদানি শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে। এতে ৭টি আমদানি চালান ৩১ কন্টেইনারে ২৯১ কোটি টাকা মানি লন্ডারিং হয়েছে বলে জানা যায়। আর এই জালিয়াতি প্রক্রিয়া চক্রের মূল হোতা সুরুজ মিয়া ওরফে বিল্লাল হোসেন খানকে ১নং নাম্বার আসামী করে অর্থপাচারের অভিযোগে ৭টি পৃথক মামলা দায়ের করে কাস্টমস।

চাইনিজ আরেকটি কোম্পানি চায়না বিডিএল নন্দীপাড়া পাগলা ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ ঠিকানায় অস্তিত্বহীন আরেকটি প্রতিষ্ঠানের নামে ৭ টি চালানে ২৫ কন্টেইনার পণ্য আমদানি করেছে। আর আমদানিকৃত পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করা হয়। অস্তিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠানের কোনো মেশিনারিজ আমদানির সুযোগ না থাকার সত্বেও আমদানি করে। এই দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও সুরুজ মিয়া ওরফে বিল্লাল হোসেন খানকে আসামি করে তার আরো ৭টি পৃথক পৃথক মামলা করা ২৩৪ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ এনে।

কাস্টমসের ডিজি জানিয়েছে, কাস্টম অধিদপ্তরের কাছে অস্তিত্বহীন ৩০ প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৫টি মানি লন্ডারিংয়ের মামলা আসে যার মধ্যে ৩০টি সমজাতীয় মামলা। সুরোজ মিয়া ওরফে বেলাল হোসেনকে রিমান্ডে নিয়ে আমরা আর বাকি তথ্য পাওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবো। এবং বাকি আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের খোজে চলছে সারাসি অভিযান।

এই ভূয়া চারটি প্রতিষ্ঠানের নামে এলসি হয়েছে ৩১টি, বিল অব এন্টি ৩১টি, তারা সর্বমোট ১৩৪ কন্টেইনার আমদানি করে, দায়েরকৃত মামলার সংখ্যা ৩০টি, এতে কর ফাঁকির পরিমাণ ১৫৩৯ কোটি টাকা। অস্তিত্বহীন এই প্রতিষ্ঠানগুলো মেশিনারিজ পণ্য ঘোষণা পত্রের মাধ্যমে অবৈধ মদ সিগারেট ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য টেলিভিশন আমদানি করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত।

শেয়ার করুন




All Rights Resrved & Protected