কিশোর গ্যাংয়ের নিষ্ঠর আচরণ,নিরব ভূমিকায় স্থানীয় প্রশাসন কিশোর গ্যাংয়ের নিষ্ঠর আচরণ,নিরব ভূমিকায় স্থানীয় প্রশাসন

সোমবার, ২১ Jun ২০২১, ০২:২৫ অপরাহ্ন







কিশোর গ্যাংয়ের নিষ্ঠর আচরণ,নিরব ভূমিকায় স্থানীয় প্রশাসন

কিশোর গ্যাংয়ের নিষ্ঠর আচরণ,নিরব ভূমিকায় স্থানীয় প্রশাসন

কিশোর গ্যাংয়ের নিষ্ঠর আচরণ,নিরব ভূমিকায় স্থানীয় প্রশাসন
কিশোর গ্যাংয়ের নিষ্ঠর আচরণ,নিরব ভূমিকায় স্থানীয় প্রশাসন

কিশোর গ্যাং কালচার এখন নিছকই এক সমস্যা নয়, এটা এখন মহাসংকটে পরিণত হয়েছে। এই সংকট নানাভাবে, নানা মাত্রিকতায় প্রকাশিত হচ্ছে। এই কিশোর গ্যাং গড়ে উঠছে শুধু কিশোরদের সমন্বয়ে নয়, বিভিন্ন বয়সের যুবকরাও এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

তাদের মধ্যে ছিন্নমূল পরিবারের সন্তান থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও রয়েছে। তারা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে। এমন কিশোর গ্যাং সারা দেশে বিস্তার লাভ করেছে। তারই ধারাবাহীকতায় নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলাও তাদের বিস্তার হতে রেহাই পায়নি। একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা।প্রতিনিয়ত কোননা কোন ঘটনা ঘটানো তাদের নিত্য দিনের রুটিং হয়ে গেছে।

জানা যায় গত ১৯ মে রাতে সেনবাগ রাস্তার মাথায় ওমর সানি (২১) নামের এক কিশোরকে তার স্কুল বন্ধু শাকিল এর আপ্যায়ন নামক চা দোকানে বসে বন্ধুদের সাথে কথা বলার সময় স্থানীয় কিশোর গ্যাং এর ক্যাডার হিসেবে পরিচিত সাদ্দাম হোসেন ওরফে কসাই সাদ্দাম (৩০), পিতা-মৃত আব্দুল হাই, সাং-আজিজপুর কসাই খালেক বাড়ি ও তার সহযোগী মারুফ হোসেন (২৩), পিতা-তবারক আলী, সাং-মহিদিপুর আতরআলী বলি বাড়ি দ্বয় সহ অজ্ঞাত নামা ৩/৪ জন উক্ত দোকানে এসে পায়ের উপর পা দিয়ে বসাকে কেন্দ্র করে উক্ত কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা এলোপাতাড়ি মারধর সহ চাকু দিয়ে নাকে ও ডান চোখের উপরে গুরুতর জখম করে চলে যায়।

উক্ত ঘটনায় পরে গত ২৩শে মে নোয়াখালী জেলার সেনবাগ থানায় জখমী ওমর সানির পিতা ওমর ফারুক বাদী হয়ে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। যাহা সেনবাগ থানার মামলা নং-১৬, তাং-২৩/০৫/২০২১ খ্রীঃ, ধারা-৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৩৭৯/৫০৬ দঃবিঃ।

উক্ত মামলার বাদী ওমর ফারুক জানান, ঘটনার পূর্বে বর্ণিত আসামিদের কাউকে তিনি কিংবা তাহার ছেলে চিনত না।

উক্ত ঘটনার প্রত্যক্ষ্যদর্শী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানান, কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে পরিচিত গিয়াস উদ্দিন (৩৮), পিতা-মোঃ ইলিয়াস, সাং-মোহাম্মদপুর এর নেতৃত্বে আজিজপুরের সাদ্দাম হোসেন ওরফে কসাই সাদ্দাম (৩০), মহিদিপুরের মারুফ হোসেন (২৩), আরিফ হোসেন (২৪), গিয়াসউদ্দিন রতন (২৮), জাহিদুল ইসলাম জাবেদ (২৭) সহ ১৪/১৫ জনের একটি কিশোর গ্যাং সেনবাগ রাস্তার মাথা এলাকা সহ আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে।

কথায় কথায় লোকজনদেরকে মারধর করে। সেনবাগ রাস্তার মাথায় অবস্থিত ব্যবসায়ীরা কমবেশি উক্ত কিশোর গ্যাংদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। উক্ত কিশোর গ্যাং কর্তৃক প্রতিনিয়ত অনেক ঘটনা ঘটলেও তাহাদের ভয়ে থানায় কিংবা কোর্টে কেউ অভিযোগ দেওয়ার সাহস করে না বলে স্থানীয়রা জানান। তাহারা আরো জানান, স্থানীয় প্রশাসন উক্ত কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে অবগত থাকলেও কিশোর গ্যাং টি স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকার কারনে প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করেন।

শারীরিকভ নির্যাতিত কিশোরের পিতা ওমর ফারুক বলেন, তিনি তার পরিবার নিয়ে দীর্ঘ চার বছর যাবৎ তাহার মেয়ে বাংলাদেশ পুলিশে সহকারি উপ-পুলিশ পরিদর্শক পদে কর্মরত জান্নাতুল ফেরদৌস এর ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন। তিনি নিজেও অসুস্থ্য। ওমর সানি তাহার একমাত্র সন্তান।

ঘটনার দিন তাহার ছেলে ঈদ উপলক্ষে বন্ধুদের সাথে দেখা করার জন্য সেনবাগ রাস্তার মাথা তাদেরই আরেক স্কুল বন্ধুর চা দোকানে বসে কথা বলাকালীন উক্ত কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। অল্পের জন্য তাহার ছেলের চোখ রক্ষা পেয়েছে। তাহার ছেলের মত নিরপরাধ কেউ যেন উক্ত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দ্বারা নির্যাতিত হতে না হয় সেই জন্য তিনি উক্ত কিশোর গ্যাং এর সদস্যদের শনাক্ত পূর্বক প্রশাসনের কাছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

শেয়ার করুন




All Rights Resrved & Protected